সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রিয়াদ, সৌদি আরব, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। রিয়াদ, সৌদি আরব, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই আজ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে এই তিন দেশ আজ শুক্রবার জেদ্দায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করবে।

সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী ও সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র বলেছে, চুক্তিটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। তবে অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। সৌদি সরকারের দ্বিতীয় ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও আজ চুক্তি সই হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চুক্তি সই উপলক্ষে লোহিত সাগরতীরবর্তী শহর জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তাঁরা আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের আজ জেদ্দায় পৌঁছানোর কথা আছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি গতকাল বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ সফর অনুষ্ঠিত হলেও এর গুরুত্ব তাৎক্ষণিক সংকট ও স্বল্পমেয়াদি বিবেচনার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন, তিয়ানজিন, চীন, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

কয়েক মাস ধরে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি কৌশলগত জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে তুরস্ক।

এর আগে ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হওয়ায় সে সময় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।