আহমেদ উইশাহ
আহমেদ উইশাহ

ইসরায়েলি হামলায় আগে ভাইকে হারিয়েছেন, এবার নিজেই নিহত আল-জাজিরার ফটোসাংবাদিক

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় আল-জাজিরার ফটোসাংবাদিক আহমেদ উইশাহ নিহত হয়েছেন। উপত্যকাটির মধ্যাঞ্চলীয় বুরেইজ শরণার্থীশিবিরের একটি বাড়িতে তিনি অবস্থানকালে সেখানে এ হামলা চালানো হয়।

গাজায় কর্মরত আল-জাজিরার সংবাদকর্মীরা জানান, গতকাল শনিবারের ওই হামলায় উইশাহসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরেকজন ফিলিস্তিনি।

এক বিবৃতিতে আল-জাজিরা তাঁদের এ কর্মীকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করায় ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেছে। বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন হামলায় এ নিয়ে আল-জাজিরার ১২ জন কর্মী নিহত হলেন।

ভয়ংকর এ অপরাধে জড়িত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি আর বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিবৃতিতে আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

আহমেদ উইশাহের ভাই মোহাম্মদ উইশাহও ছিলেন আল-জাজিরার সংবাদকর্মী। গত ৮ এপ্রিল গাজা নগরীর পশ্চিমের উপকূলীয় আল-রশিদ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ ঘটনায় গাড়িটিতে আগুন ধরে নিহত হন মোহাম্মদ উইশাহ। ভাই হারানোর তিন মাস না পেরোতেই ইসরায়েলি নৃশংসতায় আহমেদ উইশাহও প্রাণ হারালেন।

আহমেদ উইশাহের ভাই মোহাম্মদ উইশাহও ছিলেন আল-জাজিরার সংবাদকর্মী। গত ৮ এপ্রিল গাজা নগরীর পশ্চিমের উপকূলীয় আল-রশিদ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ ঘটনায় গাড়িটিতে আগুন ধরে নিহত হন মোহাম্মদ উইশাহ। ভাই হারানোর তিন মাস না পেরোতেই ইসরায়েলি নৃশংসতায় আহমেদ উইশাহও প্রাণ হারালেন।

আল-জাজিরা মোহাম্মদ উইশাহ হত্যার ঘটনাকে ‘সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানো ও সত্যের কণ্ঠরোধ করার ইসরায়েলি পরিকল্পিত নীতির’ অংশ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল।

মোহাম্মদ উইশাহকে ‘হামাসের রকেট ও অস্ত্র উৎপাদনের সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ “সন্ত্রাসী” উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বলা হয়েছে, এ জন্য তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এমন দাবির পেছনে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

হামলায় এক দিনে নিহত ১০

বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে এ হামলার পর গতকাল গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে ১০–এ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলে একটি বাড়িতে হামলায় দুই শিশুসহ একই পরিবারের নিহত ৪ জন রয়েছেন।

এ ছাড়া গাজা নগরীর উত্তরাঞ্চলে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। উত্তরের বেইত লাহিয়ায় গুলিতে এক নারীর প্রাণ গেছে।

গাজার সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজার বেশির ভাগ এলাকা। এ ছাড়া এক বা একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১৯ লাখ মানুষ।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে ইসরায়েলি হামলা-বর্বরতা থামেনি। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তাদের হামলায় এ পর্যন্ত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।