
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের এক হামলায় কমপক্ষে ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা স্থানীয় সময় শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের সঙ্গে মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের এই সম্মিলিত হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কমপক্ষে দুটি ‘কেসি-১৩৫’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানে জ্বালানি সরবরাহে এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, আহত সেনারা ঘাঁটির একটি ভবনের ভেতরে ছিলেন, যেটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই হামলায় একাধিক মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, ঘাঁটিতে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ড্রোন আঘাত হেনেছিল।
এর আগে ১৩ মার্চ প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। উড়োজাহাজগুলোর মেরামতের কাজ চলছে।
ওই দিনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছিল, ইরাকের আকাশসীমায় একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজের ছয় ক্রুর সবাই নিহত হন। এ ছাড়া ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একই ধরনের আরেকটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে জরুরি অবতরণ করে।
সেন্টকম দাবি করেছিল, ‘শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের গুলিতে’ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে।
দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মিশনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ হলো বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার। এর প্রধান কাজ হলো আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ করা। এর ফলে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান এবং নজরদারি উড়োজাহাজগুলো উড্ডয়নরত অবস্থাতেই জ্বালানি গ্রহণ করতে পারে। এই সক্ষমতার কারণে সামরিক উড়োজাহাজ ও যুদ্ধবিমানগুলো অবতরণ না করেই দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারে এবং তাদের অভিযানের পরিধিও অনেক বেড়ে যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এই উড়োজাহাজ মার্কিন বিমানবাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বৈশ্বিক সামরিক অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে।
দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ অর্থবছরের স্থির ডলারের হিসাবে প্রতিটি কেসি-১৩৫ উড়োজাহাজের উৎপাদন খরচ প্রায় ৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। উড়োজাহাজটি তৈরি করে বোয়িং কোম্পানি। অবশ্য বর্তমানে নতুন করে আর তৈরি না করে এসব উড়োজাহাজকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে।