ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট ইসরায়েলের তেল আবিবে দলটির সদর দপ্তরে বক্তব্য দেন। ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট ইসরায়েলের তেল আবিবে দলটির সদর দপ্তরে বক্তব্য দেন। ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আরেকটি নির্বাচন আয়োজন ভুল হবে বলে আইজেনকট সরকার গঠনে কি আরব দলের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত দিলেন

‘আমরা ইতিহাস গড়েছি’, ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমগুলোতে যখন বুথফেরত (এক্সিট পোল) জরিপের ফলাফল আসতে শুরু করে, তখন দলীয় সদরদপ্তর থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে এভাবেই বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন দেশটির বিরোধী জোটের প্রধান ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট।

গত মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর দলীয় কার্যালয় থেকে আইজেনকট বলেন, ‘আগামী বছরগুলোতে দেশটির নেতৃত্ব কে দেবেন, আজ সকালে ইসরায়েলের জনগণ সে বিষয়ে গণভোটের মতো একটি রায় দিয়েছেন। আজ রাতে আমরা আমাদের উত্তর পেয়েছি। জনগণ পরিবর্তনকে বেছে নিয়েছেন। ব্যর্থ জোটের ওপর জনগণ আস্থা হারিয়েছেন। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেন আর প্রধানমন্ত্রী না থাকেন, তার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ইসরায়েলের জনগণ।’

২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ আসন প্রয়োজন।

আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। আর প্রধানত আরবদের নিয়ে গঠিত দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে।

ইসরায়েলে পাঁচ দশকের মধ্যে এবার রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে। কিন্তু কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। ফলে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসন পেতে জোটে অংশীদার বাড়াতে হবে।

নেতানিয়াহুর উদ্দেশে আইজেনকট বলেন, একজন সত্যিকারের নেতা হলে জনগণের রায় মেনে নিতেন এবং আজই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতেন।

ইসরায়েলে পাঁচ দশকের মধ্যে এবার রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে। কিন্তু কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি। ফলে সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসন পেতে জোটে অংশীদার বৃদ্ধি করতে হবে।

ইসরায়েলের আরব দলগুলোর জোট গাদি আইজেনকটের ব্লকের সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ছবিতে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাজারেথে একটি বিলবোর্ডে ইসরায়েলি আরবদের দল জয়েন্ট লিস্ট পার্টির প্রার্থী সামি আবু শেহাদেহ, ইউসেফ জাবারিন ও আহমাদ তিবির (বাঁ থেকে ডানে)

ইসরায়েলের নির্বাচনব্যবস্থা অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়ে থাকে। এই সময় প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

এই সময়ে দলগুলো জোট গঠনে ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হবে। ইসরায়েলে এমন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার নজির আছে। যেমন ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলে পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

রেকর্ডসংখ্যক ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে আইজেনকট বলেন, ‘এত বেশি ভোটার উপস্থিতির একটি নির্বাচনের পর আবার আরেকটি নির্বাচনের দিকে যাওয়া ভুল হবে। জনগণের ইচ্ছার বাস্তবায়নে যা যা করা সম্ভব, তার সবকিছু করা আমাদের দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগতভাবেও এটা আমার দায়িত্ব।’

এবং নেতানিয়াহু, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করার সাহস আপনি দেখাবেন না।
গাদি আইজেনকট, ইয়াশার পার্টির নেতা

কয়েক দফা মিলিয়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে নেতানিয়াহু ইসরায়েল শাসন করছেন। এবার এড়িয়ে যাওয়ার, ব্যর্থতা ও মিথ্যার যুগের অবসান হতে চলেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি এমন একটি জায়নবাদী সরকার গঠনে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যে সরকার সবাইকে সেবা দেবে। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, এটি এক পক্ষের ওপর অন্য পক্ষের জয় নয়; বরং এটি পুরো ইসরায়েলি জনগণের জয়।’

জোটের অংশীদারদের নিয়ে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইজেনকট আরও বলেন, ইসরায়েলের সব নাগরিককে আইনি সেবা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি হামাসকে নির্মূল করারও প্রতিশ্রুতি দেন।

আইজেনকট প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করার সাহস আপনি দেখাবেন না।’

আইজেনকট তাঁর ও তাঁর দলের হয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।