সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস
সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস

ইরানের হামলায় আক্রান্ত মার্কিন দূতাবাস-ঘাঁটি

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরান। দেশটির পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে। তাতে সৌদি আরবে আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন দূতাবাস, বাহরাইনে আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন ঘাঁটি।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা করার পর সেখানে ‘সীমিত মাত্রায় আগুন’ লাগে। বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি ওমানের দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারেও ড্রোন হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে চালানো এসব হামলার কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর আঞ্চলিক চাপ বাড়ছে।

আজ মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদে চালানো হামলায় মার্কিন দূতাবাসের ‘সামান্য বস্তুগত ক্ষতি’ হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের মধ্যে আরও ড্রোন ওই স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম নিউজনেশনকে বলেছেন, দূতাবাসে হামলা এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জবাব শিগগিরই স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শিগগিরই তা জানতে পারবেন।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর রিয়াদের কূটনৈতিক পাড়ার আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ এলাকায় বিভিন্ন দেশের বিদেশি মিশন বা দূতাবাসগুলো রয়েছে।

তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, তাঁরা দূতাবাসে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং সেখানে আগুনের শিখা দেখেছেন। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ড্রোন হামলার পর যে আগুন ধরেছিল, তা বেশ ছোট আকারের।

বিষয়টির সঙ্গে অবগত এমন দুজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলার সময় দূতাবাস ভবনটি খালি ছিল। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, কূটনৈতিক পাড়া লক্ষ্য করে আসা চারটি ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।

মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে বলে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে আইআরএনএ জানায়, ‘আইআরজিসি ঘোষণা করেছে, তাদের নৌবাহিনী ভোরে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।’

এতে দাবি করা হয়, ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ঘাঁটিটির কমান্ড সদর দপ্তর ‘ধ্বংস করা হয়েছে’। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলার মধ্যে তেহরান সবশেষ এ হামলার দাবি করল।

এদিকে ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে সামান্য ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

বাহরাইনের মানামার সিফ এলাকায় ইরানি ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ১ মার্চ ২০২৬

মার্কিনদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা

ইরানের হামলার মুখে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ইরাক থেকে জরুরি নয়, এমন কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এর এক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার–বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরা নামদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ইরান, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনের বেশি দেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের যেকোনো বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবহার করে ‘অবিলম্বে ওই সব দেশ ত্যাগের’ পরামর্শ দেন।

কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনার’ কারণে দূতাবাসটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, ইসরায়েল ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের সরিয়ে নিতে বা সরাসরি সহায়তা করতে তারা অক্ষম।

এর আগে মঙ্গলবার রিয়াদ, জেদ্দা ও দাহরান শহরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের হামলার মধ্যে ‘নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার’ নির্দেশ দেয় সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘হামলার কারণে আমরা সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছি। সৌদি আরবে মার্কিন মিশন এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’