ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

বিবি কোথায়: ভিডিওতে নেতানিয়াহুর এক হাতে ৬ আঙুল দেখে তাঁকে নিয়ে নানা সংশয়

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত শুক্রবারের একটি ভিডিও দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও এআই দিয়ে সম্পাদনা করা কি না।

আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবহারকারীরা তাঁর শুক্রবারের (১৩ মার্চ) সর্বশেষ ভিডিওতে একটি বিশেষ অসংগতি লক্ষ করেন। ভিডিওতে তাঁর এক হাতে ছয়টি আঙুল আছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করার সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গতকাল শুক্রবার নেতানিয়াহু ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, যা বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ শনিবার যুদ্ধের ১৫তম দিন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে আগ্রাসনের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

ব্যবহারকারীরা দাবি করেন, নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওতে তাঁর ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। ‘ক্ল্যাসিক এআই ফিঙ্গার গ্লিচ’ লিখে পোস্ট করা এই ভিডিওগুলো লাখ লাখ মানুষ দেখছেন। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করছেন, তিনি আসলে মারা গেছেন। তবে এক্সের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’ ফ্যাক্ট চেক করে এসব মন্তব্যকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেছে।

হিব্রু ভাষায় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘হে বিবি, আপনি কি এতই বিশেষ যে আপনার ছয়টি আঙুল? নাকি আপনি অনেক আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন?’

এই উদ্বেগের তালিকায় যোগ দিয়েছেন মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডাস ওয়েনস। তিনি তাঁর ডাক নাম ধরে প্রশ্ন করেছেন, ‘বিবি কোথায়?’

একটি পোস্টে ওয়েনস লিখেছেন, ‘কেন তাঁর অফিস থেকে ভুয়া এআই ভিডিও প্রকাশ করে আবার ডিলিট করা হচ্ছে এবং হোয়াইট হাউসে কেন এত আতঙ্ক?’

এক্সের এআই চ্যাটবট গ্রোক ছয় আঙুলের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, ‘না, অন্য সবার মতো নেতানিয়াহুরও প্রতি হাতে পাঁচটি করে আঙুল আছে। ভিডিওতে তিনি পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে আঙুল দিয়ে ইশারা করছিলেন। লাল বৃত্ত ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে একটি অপটিক্যাল ইলিউশন বা দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়েছে, যা দেখতে অস্বাভাবিক লাগছে। ছবিটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও থেকে নেওয়া।’

অন্য একটি পোস্টের জবাবে গ্রোক লিখেছে, ‘নেতানিয়াহু জীবিত আছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা স্নোপস, টাইমস অব ইসরায়েল এবং অন্যরা ভিত্তিহীন তথ্য বলে দাবি করেছে। কেবল ভেরিফায়েড সূত্রের ওপর ভরসা রাখুন।’

‘ক্রেমলিন’ নামের একটি পেজ (যার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়া এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসার ঘটনাটি উল্লেখ করেছে।

একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের দিকেও সবার নজর পড়েছে। সচরাচর এক্সে বেশ সক্রিয় থাকলেও ইয়ার নেতানিয়াহু গত ৯ মার্চের পর আর কোনো পোস্ট শেয়ার করেননি।