বিশ্বের দামি ও বিরল রত্ন বেশি পাওয়া যায় এই ১০ স্থানে

কোহিনুর হীরার নাম শুনলেই যদি আপনার ভেতর কৌতূহল জাগে কিংবা সোনার দামের ওঠানামায় যদি বারবার চোখ রাখেন; তবে বুঝে নিন, রত্নপাথরের প্রতি আপনার বিশেষ টান আছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ঝলমলে আর দামি রত্নগুলোর ভান্ডার কোথায় লুকিয়ে আছে, তা হয়তো আপনার জানতে ইচ্ছা করে।

পৃথিবীর নানা প্রান্তে আছে এমন সব রত্নভান্ডার, যেগুলো বলা চলে প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে থাকা সম্পদ। মিয়ানমার, কলম্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এসব রত্নভান্ডার। বিশ্বের দামি ও বিরল রত্ন বেশি পাওয়া যায়, এমন ১০ দেশ ও স্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মিয়ানমার

মিয়ানমারের খনি থেকে তোলা রুবি পাথর

মিয়ানমারের মোগক এলাকাটি ‘ভ্যালি অব রুবিস’ বা রুবির উপত্যকা নামে পরিচিত। এখানকার সবচেয়ে বিখ্যাত রুবি পাথর হলো ‘পিজন ব্লাড রুবি’। এ ধরনের পাথরের রং গাঢ় লাল। আর তাতে থাকে নীলের হালকা আভা।

এ রুবিগুলো শুধু বিরলই নয়; বরং পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রত্নের একটি। নিলামে এ ধরনের এক ক্যারেট রুবির দাম ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে!

ভারত

ভারতের গোলকোন্ডা এলাকার খনি থেকে উত্তোলিত বিরল হীরা

হীরার রাজধানী হিসেবে আফ্রিকা খ্যাতি পাওয়ার আগে পৃথিবীর সেরা হীরার ভান্ডার ছিল ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদের গোলকোন্ডা।

এ প্রাচীন এলাকায় কোহিনুর আর হোপ ডায়মন্ডের মতো হীরার ভান্ডার আছে। বড় আকার ও অত্যন্ত স্বচ্ছ হওয়ার কারণে আজও সারা বিশ্বে গোলকোন্ডার হীরা বেশ সমাদৃত।

কলম্বিয়া

কলম্বিয়ার খনি থেকে উত্তোলিত পান্না

বিশ্বে কলম্বিয়ার পান্নার বিশেষ কদর রয়েছে। উজ্জ্বল সবুজ রং ও অসাধারণ স্বচ্ছতার কারণে এ পাথর বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে এখানকার মুজো, কোস্কুয়েজ ও চিভোর খনি বেশ বিখ্যাত।

এসব খনি থেকে প্রায় ৫০০ বছর ধরে পান্না উত্তোলন করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কায় পাওয়া নীল স্যাফায়ার বেশ বিখ্যাত

রত্ন সম্ভারের কারণে শ্রীলঙ্কাকে রত্নদ্বীপ নামে ডাকা হয়ে থাকে, বিশেষ করে দেশটির রত্নপুরা অঞ্চলটি রত্নভান্ডার হিসেবে পরিচিত।

শ্রীলঙ্কায় নানা রঙের অত্যন্ত মানসম্পন্ন স্যাফায়ার (নীলকান্ত মণি) পাওয়া যায়। তবে এখানকার নীল রঙের স্যাফায়ার সবচেয়ে বিখ্যাত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শ্রীলঙ্কার এ স্যাফায়ারের ঝলক রাজকীয় গয়নায় স্থান পেয়েছে।

তাঞ্জানিয়া

তানজানাইট রত্নপাথর

বিরল পাথর তানজানাইট সারা পৃথিবীতে শুধু উত্তর তানজানিয়ার ছোট একটি অঞ্চলেই পাওয়া যায়। মানিয়ারার অঞ্চলের মেরেরানি পাহাড়ে এ রত্নভান্ডারের অবস্থান। খনি এলাকাটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাত কিলোমিটার ও প্রস্থ দুই কিলোমিটার।

১৯৬৭ সালে কিলিমাঞ্জারো পর্বতের পাদদেশে প্রথম এ বিরল রত্ন আবিষ্কৃত হয়। মেরেরানি এলাকার খনিগুলোই তানজানাইটের একমাত্র পরিচিত উৎস। সীমিত সরবরাহের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তানজানাইটের দাম অনেক বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার কুবার পেডি ও লাইটনিং রিজকে বিশ্বে ওপালের (রত্নপাথর) রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে লাইটনিং রিজ এলাকার কালো ওপাল অত্যন্ত দামি।

রত্নপাথরে বিভিন্ন রঙের ঝলক দেখা যায়। এ ছাড়া এটি খুব বিরলও। এ কারণে কখনো কখনো নিলামে এ ধরনের রত্নের দাম ক্যারেটপ্রতি ১০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।

রাশিয়া

রাশিয়ার ইউরাল পর্বতমালায় ‘অ্যালেক্সানড্রাইট’ নামের এক ধরনের বিরল রত্নপাথর পাওয়া যায়। সময়ভেদে অ্যালেক্সানড্রাইট পাথরের রং বদলায়। এ জন্য এ পাথর বিশেষভাবে পরিচিত।

এ রত্নপাথরকে দিনের আলোয় সবুজ দেখা যায়। আবার বৈদ্যুতিক বা উজ্জ্বল আলোয় লাল-মেরুন মনে হয়। উচ্চমানসম্পন্ন অ্যালেক্সানড্রাইট খুবই বিরল ও দামি পাথর।

ব্রাজিল

‘প্যারাইবা টুরমালিন’ এক দারুণ রত্ন। এর নীলচে-সবুজ রঙের আভা রত্নপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়া এ পাথর বেশ বিরল। প্রথম এটি আবিষ্কৃত হয় ব্রাজিলের প্যারাইবা রাজ্যে।

প্যারাইবা টুরমালিন অন্য যেকোনো টুরমালিন পাথরের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়। হাতের আংটিতে ঝলমল করুক কিংবা সংগ্রাহকের কাছে অপরিশোধিত অবস্থায় থাকুক—এ পাথর রত্নপ্রেমীদের জন্য সত্যিকারের আকর্ষণীয় রত্ন।

মাদাগাস্কার

মাদাগাস্কারের খনিতে পাওয়া স্যাফায়ার

রত্নপ্রেমীদের জন্য মাদাগাস্কার যেন এক স্বর্গভূমি। এখানে পাওয়া যায় স্যাফায়ার, রুবি, গারনেটসহ নানা রত্নপাথর।

মাদাগাস্কারের ইলাকাকা নামের ছোট শহরটি একসময় শান্ত ও ছিমছাম ছিল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এ শহর রত্নশিল্পের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। আজও ইলাকাকা শহরটি বিশ্বের রত্নভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে খ্যাত।

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের বাদাখশান ‘ল্যাপিস লাজুলি’ রত্নপাথরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ অঞ্চলে ছয় হাজার বছরের বেশি সময় ধরে ল্যাপিস লাজুলি পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

প্রচলিত অর্থে ল্যাপিস লাজুলি অতটা দামি রত্ন পাথর নয়। তবে উচ্চমানের ল্যাপিস অত্যন্ত মূল্যবান। একসময় এ পাথর সোনার চেয়েও বেশি দামি বলে গণ্য হতো।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া