চলতি বছর শীর্ষ অর্থনীতির কাতারে কোন কোন দেশ থাকতে পারে

চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ১২৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন (প্রতি ট্রিলিয়ন ১ লাখ কোটি ডলার) ডলারে পৌঁছাতে পারে। সবচেয়ে বড় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে এর আকার দাঁড়াতে পারে ৩১ হাজার ৮২১ ট্রিলিয়ন ডলারে। এরপরেই রয়েছে চীন। এশিয়ার এই দেশটির জিডিপি ২০ হাজার ৬৫১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের শীর্ষ ১০ জিডিপির দেশের একটি তালিকা করা হয়েছে। নিচে এসব দেশের তালিকা তুলে ধরা হলো।

কানাডা

কানাডার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান সেবা খাতের। এরপর শিল্প খাত, প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৃষি-খাদ্য খাত মিলিয়ে দেশটির প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করেছে। এর ওপর দাঁড়িয়ে দেশটির জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি ডলারে।

রাশিয়া

তেল, গ্যাস, শিল্প ও কৃষি রাশিয়ার অর্থনীতির মূল উৎস। এ ছাড়া রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম সমরাস্ত্র বিক্রির দেশ। চলতি বছর জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে।

ইতালি

ইতালির অর্থনীতিতে পর্যটন, কৃষি ও উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য ভূমি রয়েছে। চলতি বছর ইতালির জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারে।

ফ্রান্স

ফ্রান্স অর্থনীতিতে বিমান, জাহাজ নির্মাণ, ডিজিটাল খাতে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য ভূমি রয়েছে

ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ ফ্রান্স। দেশটির অর্থনীতি কৃষি, সেবা ও উৎপাদন খাতের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বিমান, জাহাজ নির্মাণ, ডিজিটাল খাতে রপ্তানি থেকে আয় করে থাকে দেশটি। চলতি বছর ফ্রান্সের জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ৩ লাখ ৫৫ হাজার কোটি ডলারে।

যুক্তরাজ্য

বেতন, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ আয় থেকে যুক্তরাজ্য সরকারের সবচেয়ে বেশি আয় আসে। এ ছাড়া কৃষি, নির্মাণ, ব্যাংক ও গবেষণা খাত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খাত। চলতি বছর যুক্তরাজ্যের জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ২২ হাজার কোটি ডলারে।

জাপান

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও উত্পাদন দক্ষতা জাপানের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনে দিয়েছে

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, উত্পাদন দক্ষতা ও পরিষেবা শিল্প ইত্যাদি জাপানের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনে দিয়েছে। এ ছাড়া গাড়িশিল্পসহ ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি ও আর্থিক খাত জাপানের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। জাপানের জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ৪ লাখ ৪৬ হাজার কোটি ডলারে।

ভারত

জিডিপিতে ভারতের অবস্থান অনেক ওপরে

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ ভারত। এশিয়ার দেশটি জিডিপিতে বেশ এগিয়ে। দেশটির জিডিপির আকার হতে পারে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার।

ভারতে অতি ধনীদের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এই শ্রেণির মানুষের হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে ভারতে এই শতকোটিপতি বা বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৪।

জার্মানি

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি

ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানি। বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির দেশের তালিকায় এর অবস্থান তৃতীয়। দেশটির মোট জিডিপি হতে পারে পাঁচ লাখ হাজার ৩২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।

জার্মান অর্থনীতি দৃঢ়ভাবে রপ্তানিনির্ভর। প্রকৌশল, গাড়ি, রাসায়নিক ও ওষুধ রপ্তানির সুবাদে দেশটির অর্থনীতি অনেক বিকশিত হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে রয়েছে দক্ষ শ্রমশক্তি, শক্তিশালী গবেষণা ও উন্নয়ন উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি।

চীন

শীর্ষ অর্থনীতির দেশের তালিকায় চীনের অবস্থান দ্বিতীয়

যুক্তরাষ্ট্রের পরেই বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশের তালিকায় রয়েছে চীন। দেশটির মোট জিডিপি ২০ লাখ ৬৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বের উৎপাদন খাতের মোট মূল্য সংযোজনের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে চীন থেকে। বৈদ্যুতিক যান, ব্যাটারি, সৌর প্যানেল ও নানা উন্নত শিল্প উপকরণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে আধিপত্য বজায় রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের সববৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের সববৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। শিক্ষা, অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে আছে দেশটি। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্র স্বপ্নের দেশ। মূলত শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হওয়ায় অভিবাসীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে দেশটি। চলতি বছর দেশটির মোট জিডিপি হতে পারে ৩১ লাখ ৮২ হাজার ১০০ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মাথাপিছু আয় ৮৯ হাজার ৫৯৮ ডলার। উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দেশটির আয় হয়। প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নত উৎপাদনশিল্প অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়, শক্তিশালী পুঁজিবাজার ও উচ্চ উৎপাদনশীলতা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় দেশ হওয়ায় বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর তালিকায় সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থান।