আফগানিস্তানের নানগড়হার এলাকায় রাস্তায় সামরিক যান। ২৬ ফেব্রুয়ারি
আফগানিস্তানের নানগড়হার এলাকায় রাস্তায় সামরিক যান। ২৬ ফেব্রুয়ারি

সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলায় পাকিস্তানের দুই সেনা নিহত

পাকিস্তান সীমান্তে দেশটির সামরিক বাহিনীর অবস্থানে হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার এ হামলা চালানো হয়। হামলায় দুই সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। 

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পাকিস্তান বাহিনী ‘বিনা উসকানিতে’ গুলি চালানোর জবাব দিয়েছে। 

উভয় পক্ষই সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষেরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তাঁরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

আফগান তালেবান জানিয়েছে, তারা এ সপ্তাহের শুরুর দিকে পাকিস্তানের হামলার জবাবে ‘বড় আকারের’ অভিযান শুরু করেছে। তাদের দাবি, হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা জঙ্গি আস্তানায় হামলা চালিয়েছে। 

তালেবানের সামরিক মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদী বলেন, গতকাল স্থানীয় সময় রাত আটটার দিকে এই ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ শুরু করা হয়েছে। 

এদিকে তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, অভিযানে ‘অনেক’ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। অনেককে বন্দী করা হয়েছে।

তালেবানের এমন দাবি খারিজ করে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র। জাবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি করা ১৫টি সামরিক চৌকি দখলের খবরও নাকচ করে দেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি আফগান হামলায় পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, সব আগ্রাসনের ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকর’ জবাব দেওয়া হবে।

এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালায় পাকিস্তান। হামলায় ১৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন বলে জানিয়েছিল আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন। 

যদিও মৃত্যু নিয়ে পৃথক দাবি করেছে ইসলামাবাদ ও কাবুল। ইসলামাবাদের দাবি, ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আর ১৮ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল কাবুল।