
পাকিস্তানের পেশোয়ারের আফ্রিদি আবাদ এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি স্কুলের ছাদ ধসে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী ও ১ জন শিক্ষক।
লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ আসিম ডনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে আসিম ২১ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তখন বলেছিলেন, নিহত ২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে। তাদের বয়স ৭ থেকে ১২ বছর। এ ছাড়া একজন নারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানান মুহাম্মদ আসিম। নিহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
স্কুলের ছাদ ধসে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন ও ছাদ ধসে পড়ার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার পর লেডি রিডিং হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলেও জানান মুহাম্মদ আসিম।
পেশোয়ারের ডেপুটি কমিশনার আফাক ওয়াজির ডনকে বলেন, আল খায়ের স্কুলের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় ছাদ ধসে পড়ে। এর কারণে শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শিশুদের উদ্ধারে কাজ করছেন বলে তাঁর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
পরে ডেপুটি কমিশনার আফাক জানান, উদ্ধারকারী দল সব ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলেছে এবং ঘটনাস্থলে আর কোনো আহত শিশু নেই।
এদিকে স্কুলের ছাদ ধসে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং ছাদ ধসে পড়ার কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আমি আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেছি। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছাই। আমাদের ছয় সন্তান এ স্কুলে পড়ে।সামিউল্লাহ, অভিভাবক
এক বিবৃতিতে গভর্নর বলেন, ‘নিরপরাধ শিশুদের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
সামিউল্লাহ নামের এক বাবা স্কুলের ছাদ ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি ডনকে বলেন, ‘আমি আট বছরের কম বয়সী তিনটি মেয়েশিশুকে উদ্ধার করেছি। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছাই। আমাদের ছয় সন্তান এ স্কুলে পড়ে।’
সামিউল্লাহ আরও বলেন, ‘ভবনটি দেখে আমি ভেবেছিলাম, আমার ছেলেও মারা গেছে। সে নিচতলায় পড়ত। তার শ্রেণিকক্ষের ঠিক ওপরের তলা ধসে পড়েছে। কিন্তু তখন সে পানি খেতে শ্রেণিকক্ষের বাইরে গিয়েছিল।’
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ার। গত রোববার কেন্দ্র সরকার থেকে এ প্রদেশে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।