ইসরায়েলের সঙ্গে ২০২৫ সালে কোন দেশ কত বড় চুক্তি করেছে

ইসরায়েল গত বছর তার বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে হাজার হাজার কোটি ডলারের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও সামরিক খাতে চুক্তি করেছে। এসব দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও মিসর, চীন, জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে। আছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গুগল ও এআই প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের নামও।

এসব চুক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মিসরের সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি। গত ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওই জ্বালানি চুক্তির অনুমোদন দেন। চুক্তির আওতায় ২০৪০ পর্যন্ত লেভিয়াথান গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিসরকে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের গ্যাস দেবে ইসরায়েল। এর ফলে ইসরায়েলের ওপর মিসরের জ্বালানিনির্ভরতা আরও বাড়বে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল বিশেষ করে ফিলিস্তিন এবং অঞ্চলজুড়ে ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ সামরিক এবং নজরদারি সরঞ্জাম বিক্রি করে লাভবান হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত বছর ইসরায়েল প্রযুক্তি ও সামরিক খাতে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগল (অ্যালফাবেট) সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক কোম্পানি ‘উইজ’ কেনার জন্য ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চুক্তি চূড়ান্ত করছে। এ ছাড়া হাইফা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (১৯ মাইল) দূরে ইসরায়েলের বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য এনভিডিয়াকে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগে রাজি করিয়েছে।

ইউরোপের দেশ জার্মানি ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি ৩১০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৬ শ কোটি ডলার করেছে, যার আওতায় দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অত্যাধুনিক ‘অ্যারো–৩’ পাবে জার্মানি। জার্মানির সঙ্গে এই চুক্তি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামরিক রপ্তানি।

জনসমক্ষে প্রকাশিত ইসরায়েলের স্বাক্ষরিত কিছু বড় চুক্তি তুলে ধরা হলো:

সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার

মিসরের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বাক্ষরিত সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় দীর্ঘ মেয়াদে প্রাকৃতিক গ্যাস পাবে মিসর। ইসরায়েল ১৩০ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করবে ২০২৬ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত। এটি ২০২৫ সালে ইসরায়েল স্বাক্ষরিত সবচেয়ে বড় প্রকাশ্য চুক্তি।

৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চুক্তি

গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ‘উইজ’ কিনতে চুক্তি করেছে, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম প্রযুক্তি চুক্তি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এটা চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

আড়াই হাজার কোটি ডলারের চুক্তি

পালো অল্টো নেটওয়ার্কস ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান সাইবারআর্ক কেনার ঘোষণা দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও শেয়ারহোল্ডার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এটি চূড়ান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাণিজ্যের বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র ও চীন

ইসরায়েল ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৪ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য করেছে, যা ইসরায়েলের মোট বাণিজ্যের ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

এ ছাড়া চীনের সঙ্গে ৮ হাজার ৬৫০ কোটি ডলারের (১১.৬%), জার্মানির সঙ্গে ৪ হাজার কোটি ডলারের (৫.৫%) এবং তুরস্কের সঙ্গে ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের (৪.৮%) বাণিজ্য করেছে ইসরায়েল।

সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ইসরায়েলের বাণিজ্য ছিল ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের। এই তালিকায় বেলজিয়াম, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, হংকং, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের নাম রয়েছে।

২০২৪ সালে ইসরায়েলের আমদানি ও রপ্তানির তালিকায় দেখা যায়, দেশটি ফোন, কম্পিউটার, বিদ্যুতের যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস, ট্রাক, বাস এবং উড়োজাহাজসহ খনিজ পণ্য পেট্রোলিয়াম, কয়লা ও সিমেন্ট আমদানি করে। দেশটির রপ্তানির তালিকায় রয়েছে হীরা, সোনা, অপটিক্যাল, প্রযুক্তিগত ও চিকিৎসা যন্ত্রসরঞ্জাম ইত্যাদি।