
করোনা মহামারির ভয়াবহ রূপ দেখেছে লাতিন আমেরিকার দেশ পেরু। করোনায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হার দেশটিতে। এর মধ্যেই স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার পেরু সরকার জানিয়েছে, দেশটির প্রায় ১ লাখ শিশু তাদের মা-বাবার মধ্যে অন্তত একজনকে করোনা সংক্রমণে হারিয়েছে। খবর এএফপির।
চিকিত্সাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটের বরাত দিয়ে পেরুর নারীবিষয়ক মন্ত্রী আনাহি দুরান্দ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের প্রায় ৯৮ হাজার শিশু মহামারির সময় তাদের মা, বাবা অথবা অভিভাবককে হারিয়েছে।’
এএফপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেরুতে প্রতি ১০ লাখে ৬ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুহারের দিক দিয়ে সারা বিশ্বে এটি রেকর্ড। এ মুহূর্তে ১৮ হাজারের বেশি পরিবারকে প্রতি দুই মাসে ৫০ মার্কিন ডলার করে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে দেশটির সরকার।
সরকারের এ সুবিধার আওতায় মানসিক ও শিক্ষাগত সহায়তাও আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আনাহি দুরান্দ। ৮৩ হাজারের বেশি শিশু-কিশোরের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থায় মূল বিষয়টি হলো সহায়তা নিতে অনেক পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।’
পেরুর এই মন্ত্রী বলেন, অনেক পরিবার এসে সহায়তা চায়। কিন্তু তাঁদের কাছে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো সনদ থাকে না। কারণ, করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় অনেকের বাসায় মৃত্যু হয়েছে। ফলে তাঁদের মৃত্যুসনদ নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
৩ কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের দেশে পেরুতে করোনার প্রথম দুই ধাক্কার পর এ মুহূর্তে তৃতীয় ঢেউ চলছে পেরুতে। ভাইরাসটি শনাক্তের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২০ লাখের বেশি মানুষ। আর মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষের।