লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার জঙ্গলে একটি বাচ্চা বিড়াল খুঁজে পেয়েছিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। শরীরে ছোপ ছোপ দাগ। আকৃতি পোষা বিড়ালের মতোই। ওই ব্যক্তি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো পোষা বিড়াল। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, এটির আচরণ বাসাবাড়ির সাধারণ বিড়ালের মতো নয়। পরে সেটির স্থান হয় প্রাণীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে।
ওই আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিলেন বলিভিয়ার বিজ্ঞানী নোগালেস-আসারুনস। তাঁর চোখে পড়ে বিড়ালটি। বুঝতে পারেন, এটি একটি বন্য বিড়াল। শুরু করেন সেটি নিয়ে পরীক্ষা। যোগ দেন অন্য গবেষকেরাও। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, এটি নতুন এক প্রজাতির বন্য বিড়াল। আর আশ্রয়কেন্দ্রে ওই বিড়ালের বাইরে এ প্রজাতির অন্য কোনো বিড়াল কখনো দেখা যায়নি।
বিড়ালটি নিয়ে গবেষণা গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানী নোগালেস এই গবেষণাপত্রের একজন সহলেখক। গবেষণাপত্রে বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো। আর বন্য বিড়ালটিকে ডাকা হচ্ছে ‘টাইগ্রিনো’ নামে। সেটির বয়স ১০ বছর। এখন সেটি লম্বায় ১৮ ইঞ্চি, ওজন প্রায় দেড় কেজি।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ইউঙ্গাস অঞ্চল থেকে বন্য বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়। এটি ঘন বনে ঢাকা একটি পাহাড়ি অঞ্চল। এই বনভূমি মেঘে ঢাকা থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে। বিজ্ঞানী নোগালেস বলেন, বন্য বিড়ালের এই প্রজাতি রাতে বেশি সক্রিয় থাকে বলে মনে হচ্ছে। আর বিড়ালটির মল থেকে ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। সেগুলো হয়তো এটির খাবার।
বন্য বিড়াল ও পোষা বিড়াল—দুটোই ফেলিডাই নামের জৈবিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারে রয়েছে বাঘ, সিংহ, চিতা থেকে শুরু করে সব ধরনের বিড়ালজাতীয় প্রাণী। এত দিন ফেলিডাই পরিবারে ৪১ প্রজাতির বিড়ালজাতীয় প্রাণী ছিল। বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিসহ এখন হলো ৪২টি। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, সব মিলিয়ে বিড়ালের ৪৪টি বা তার বেশি প্রজাতি থাকতে পারে।