কলম্বিয়ার কালি শহরে শপথ গ্রহণের পর স্যালুট দিচ্ছেন নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। ৭ আগস্ট, ২০২৬
কলম্বিয়ার কালি শহরে শপথ গ্রহণের পর স্যালুট দিচ্ছেন নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। ৭ আগস্ট, ২০২৬

কলম্বিয়ার ট্রাম্প-সমর্থিত নতুন প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা শপথ নিলেন

কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা গতকাল শুক্রবার শপথ গ্রহণ করেছেন। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি মাদক পাচারের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালানোর অঙ্গীকার এবং অর্থনীতির প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মিতব্যয়ী আর্থিক নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

৪৮ বছর বয়সী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা গত জুন মাসের রান–অফ নির্বাচনে বিজয়ী হন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, রাষ্ট্রের ব্যয় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো এবং তেল ও গ্যাস খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

একসময় আইনজীবী হিসেবে কাজ করা দে লা এসপ্রিয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি নির্বাচনে দেশটির ডানপন্থী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভোটের আগে ট্রাম্প তাঁকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দে লা এসপ্রিয়েলা এর আগে কখনো কোনো নির্বাচিত সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

দে লা এসপ্রিয়েলা এর আগে কখনো কোনো নির্বাচিত সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

শপথ গ্রহণের পর কালি শহরের পিচিঞ্চা ব্যাটালিয়ন সামরিক ঘাঁটিতে দেওয়া ভাষণে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আমি পুরো একটি জাতির আত্মসমর্পণের মানসিকতার এবং হতাশার দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে এসেছি। আমি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ভাগ্যের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করতে চাই।’

এই ভাষণের কিছুক্ষণ আগে এসপ্রিয়েলা পার্শ্ববর্তী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বিশিষ্ট অতিথি ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করেন।

এসপ্রিয়েলা আরও বলেন, ‘আমি কলম্বিয়ার জনগণের প্রতি দৃঢ় বার্তা দিতে চাই—শৃঙ্খলা, কর্তৃত্ব ও স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসে গেছে।’

এবারের নির্বাচনে এসপ্রিয়েলা বামপন্থী ইভান সেপেদাকে হারিয়েছেন। কলম্বিয়ার বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সেপেদা। পেত্রোর রাজনৈতিক দল থেকে সেপেদা প্রার্থী হয়েছিলেন।

এসপ্রিয়েলা নিজেকে ‘দ্য টাইগার’ বলে পরিচয় দেন। ভোটের প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে থাকার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কলম্বিয়ার সব মানুষের শাসক হব। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা অন্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন—তাঁদের সবারই।’

১৯৯১ সালে প্রণীত কলম্বিয়ার সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের কথা জানিয়ে এসপ্রিয়েলা বলেন, তিনি সংবিধানের সুরক্ষায় কাজ করবেন।

দে লা এসপ্রিয়েলার নির্বাচন লাতিন আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ডানপন্থী রাজনৈতিক ঝোঁকেরই একটি অংশ। পেরু, আর্জেন্টিনা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া ও পানামায় দুর্বল অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান অপরাধ পরিস্থিতি ভোটারদের অগ্রাধিকার বদলে দিয়েছে।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে ডানপন্থী জাতীয়তাবাদের উত্থানের প্রেক্ষাপটে কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসব দেশে একসময় রাজনীতিতে পিছিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী প্রার্থীরা ক্রমেই নিজের দিকে জনসমর্থন আদায়ে সক্ষম হচ্ছেন।