
ভেনেজুয়েলায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বিক্ষোভের ঘটনায় আটক আরও ৮৮ জনকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার বছরের প্রথম দিন তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে এটি টানা দুই সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় গণহারে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ৯৯ জনকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। দুই দফায় মোট মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৮৭।
এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নির্দেশে মামলা নিয়ে যে সামগ্রিক পর্যালোচনা চলছে, এই মুক্তি তারই অংশ।
প্রথম দফার মতো এবারও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা। ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনের আগেই গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিসহ দেশটিতে এখনো প্রায় ৯০০ রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে কাজ করা স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা দ্য কমিটি ফর দ্য ফ্রিডম অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স অন্তত ৫৫ জনের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাইকে মধ্য ভেনেজুয়েলার টোকোরন কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে প্রথম দফার মতো এবারও মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা। ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, নির্বাচনের আগেই গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিসহ দেশটিতে এখনো প্রায় ৯০০ রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে রয়েছেন।
তবে সরকারের দাবি, ভেনেজুয়েলায় কোনো রাজনৈতিক বন্দী নেই। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই এ মুক্তির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন অনেকে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, নিকোলা মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিপুল সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছে। ইতিমধ্যে মাদক বহনের অভিযোগে ভেনেজুয়েলা উপকূলের কাছে নৌযানে চালানো হামলায় ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেলবোঝাই দুটি ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।