
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার রাতে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র ত্রেন দে আরাগুয়ার (টিডিএ) প্রধানের ওপর এক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমার নির্দেশেই মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড দ্রুত ও প্রাণঘাতী সামরিক হামলা চালিয়ে সফলভাবে (চক্রটির প্রধান) নিনো গেরেরোকে হত্যা করেছে।’
ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা খুব ভালোভাবে কাজ করছি।’
বন্ধু বলতে ট্রাম্প স্পষ্টতই দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারকে বুঝিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার পর থেকেই দেলসি ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব পালন করছেন।
ঠিক কোথায় এ হামলা চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট না করেই ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এর ফলে ত্রেন দে আরাগুয়ার সন্ত্রাসীদের জন্য ভেনেজুয়েলা বা অন্য কোথাও আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় রইল না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোস্টের সঙ্গে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছিল। ওপর থেকে ধারণ করা ওই ভিডিওতে সবুজ গাছপালায় ঘেরা একটি ভবন দেখা যায়। এর পরই একটি বিস্ফোরণ ঘটে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ভিডিওতে পরিষ্কারভাবে কোনো মানুষকে দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ত্রেন দে আরাগুয়াকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। কলম্বিয়া, পেরু ও চিলিতেও চক্রটির কার্যক্রম সক্রিয় আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের ওই পোস্টের সঙ্গে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছিল। ওপর থেকে ধারণ করা ওই ভিডিওতে সবুজ গাছপালায় ঘেরা একটি ভবন দেখা যায়। এর পরই একটি বিস্ফোরণ ঘটে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ভিডিওতে পরিষ্কারভাবে কোনো মানুষকে দেখা যায়নি।
নিনো গেরেরোর প্রকৃত নাম হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস। গত ডিসেম্বরে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক ও অস্ত্র–সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়।
এই অভিযোগ গঠনের বিষয়টি ঘোষণার সময় এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটন বলেন, ভেনেজুয়েলার একটি কারাগারভিত্তিক গ্যাং থেকে ত্রেন দে আরাগুয়া যেভাবে একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপ নিয়েছে, তার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই গেরেরো ফ্লোরেস।
জে ক্লেটন বলেন, গেরেরো ফ্লোরেসের নেতৃত্বে ত্রেন দে আরাগুয়া উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে অগণিত সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের ঘটনা ঘটিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরাগুয়াকে গ্রেপ্তার বা দোষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্য দেওয়ার জন্য ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছিল।