
ব্রাজিলের অর্থনীতিবিদ আলেক্সান্দ্রে কালদাস (৪৯)। বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ব্রাজিল বাদ পড়ে যাওয়ার পর তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক বনে গেছেন। আর্জেন্টিনার জন্য তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। কালদাসের ভাষ্য, তাঁর দেখা সেরা খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তিনি দুর্দান্ত খেলছেন। তাই বিশ্বকাপ শিরোপা জয় তাঁকেই মানায়।
কালদাসের আট বছর বয়সী ছেলে বার্নার্দো। সে মেসির পাঁড় ভক্ত। ছেলে সম্পর্কে কালদাস বলেন, ‘সে মেসির জন্য পাগল। সে চায়, মেসি জিতুক, বিশ্বসেরা হোক। এমনকি সে যাতে মেসির অটোগ্রাফ নিতে পারে, এ জন্য স্প্যানিশও শিখছে।’
এমন অনেক ব্রাজিলিয়ান আছেন, যাঁরা এখন মনেপ্রাণে চান, অবসরে যাওয়ার আগে মেসি বিশ্বকাপ জিতুন। একইভাবে তাঁরা মেসির চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট নিজেদের তারকা নেইমারের জন্যও বিশ্বকাপ ট্রফি চান।
ব্রাজিলের নাগরিক জোসে আর্নালদো দস সান্তোস জুনিয়রের কথাই ধরা যাক। বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিল দলকে উৎসাহ-উদ্দীপনা-সমর্থন দিতে কাতারে গিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ তথা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে যায়।
শেষ আটে ব্রাজিল হেরে যায় ক্রোয়েশিয়ার কাছে। এরপর থেকে ব্রাজিলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছেন সান্তোস।
ব্রাজিলের ৩৮ বছর বয়সী দন্তবিশেষজ্ঞ সান্তোস ইতিমধ্যে কাতার থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন। দেশটির সাও পাওলোর এই বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘একজন ফুটবল অনুরাগী হিসেবে, আমি মনে করি, আর্জেন্টিনা এই শিরোপা (বিশ্বকাপ) পাওয়ার যোগ্য।’
গত মঙ্গলবার সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় পায়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে যায় দলটি। আর্জেন্টিনার এই জয় উদ্যাপন করেছেন সান্তোস।
আগামীকাল রোববার কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়বে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার সমর্থক বনে গিয়ে দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের আকাশি নীল-সাদা জার্সি পরে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় শহরটির রাস্তায়ও বেরিয়েছেন সান্তোস। এ নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ কাজ করছে না।
ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন দেবেন বলে জানিয়েছেন সান্তোস। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি ব্রাজিলের পেলে ও আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনার মধ্যে কে সেরা—চিরকালীন এই বিতর্ক এড়িয়ে যাবেন।
সান্তোস বলেন, আর্জেন্টিনার মানুষ তাঁদের দল নিয়ে আবেগপ্রবণ। আর তাঁদের জাতীয় দলও মানুষের এই আবেগের মর্যাদা রাখতে চায়। যেকোনো ফুটবলপ্রেমীই এমন মহৎ উদ্দেশ্যকে সমর্থন করেন।
বিশ্বকাপের শুরুর দিকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, যদি তাঁর দল শিরোপা জিততে নাও পারে, তবে তিনি চাইবেন, দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল তা জিতুক, সেটা ব্রাজিল হলেও।
ব্রাজিলের একটি তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী, ৩৩ শতাংশ ব্রাজিলিয়ানের দ্বিতীয় পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। তবে আবার ৬০ শতাংশের বেশি ব্রাজিলিয়ান চান না, তাঁদের প্রতিবেশী দেশটি বিশ্বকাপ জিতুক।
সৌদি আরবের কাছে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার এই হার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্রাজিলিয়ান খোঁচা মেরেছেন। ট্রল করেছেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেছে। আর ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। ফাইনালে ওঠার আনন্দে ড্রেসিংরুমে ব্রাজিলকে খোঁচা মেরে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের গান করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িছে। তা সত্ত্বেও এখন আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন কিছু ব্রাজিলিয়ান।
আর্জেন্টাইন তারকা মেসির বয়স এখন ৩৫ বছর। তাঁকে পেলে, ম্যারাডোনার মতো এযাবৎকালের বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের একজন মনে করা হয়। এখন পর্যন্ত একটি শিরোপাই তাঁর অধরা, আর তা হলো—বিশ্বকাপ।