
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অবৈধ হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এডিটরিয়াল বোর্ড ৩ জানুয়ারি একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। এখানে ভেনেজুয়েলায় হামলার তীব্র সমালোচনা ও আইন লঙ্ঘনের কথা বলা হয়েছে। এডিটরিয়াল বোর্ড হলো মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিকটির মতামতভিত্তিক সাংবাদিকদের একটি দল, যাদের অবস্থান গড়ে ওঠে দক্ষতা, গবেষণা, বিতর্ক ও দীর্ঘদিনের মূল্যবোধের ভিত্তিতে। এই বোর্ড নিউজরুমের কাজ থেকে আলাদা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশাল সামরিক শক্তি মোতায়েন করে ভেনেজুয়েলাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি সেখানে একটি বিমানবাহী রণতরি, আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ, অসংখ্য যুদ্ধবিমান এবং প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন, যাঁদের ছোট নৌযানের ওপর অবৈধ হামলা চালাতে ব্যবহার করেছেন।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, এসব নৌযান মাদক বহন করছিল। গত শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর এ অভিযানের মাত্রা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করেন। তিনি ‘বৃহৎ পরিসরের হামলা’ চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যান।
খুব কম মানুষই মাদুরোর জন্য সহানুভূতি অনুভব করবেন। তিনি গণতন্ত্রবিরোধী ও নিপীড়ক শাসক এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি পুরো পশ্চিম গোলার্ধকে অস্থিতিশীল করে তুলেছেন। জাতিসংঘের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর অনুসারীদের হাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর এক দশকের বেশি সময় ধরে হত্যা, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও ইচ্ছোমতো আটক রাখা হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কারচুরি করেছেন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে তিনি গোটা অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে গত এক শতাব্দীর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা যদি কিছু থাকে, সেটা হচ্ছে সবচেয়ে নিন্দনীয় কোনো সরকারকেও ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে একটি স্থিতিশীল সরকার গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। লিবিয়ায় স্বৈরতন্ত্রের জায়গায় রেখে গেছে একটি বিভক্ত রাষ্ট্র।
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের করুণ পরিণতি এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ হলো লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার হস্তক্ষেপ। চিলি, কিউবা, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়াসহ বহু দেশে সরকার উৎখাতের চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র অস্থিরতা তৈরি করেছে।
এত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প যেন ভেনেজুয়েলাকে নতুন করে রাষ্ট্রগঠন প্রকল্পে পরিণত করতে চাইছেন। শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যত দিন না আমরা একটি নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রূপান্তর নিশ্চিত করতে পারছি, তত দিন আমরা দেশটি “চালাব”।’
ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যাই দেননি। এমনকি ভেনেজুয়েলায় তাঁর পদক্ষেপের জন্য সুসংহত কোনো যুক্তিও তিনি উপস্থাপন করেননি।
যদি ট্রাম্প সত্যিই আরেকটি দেশে আগ্রাসন ও দখলদারির পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে চান, তবে সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে, তাঁকে কংগ্রেসে যেতে হবে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তাঁর এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের লঙ্ঘন।
প্রশাসনের সামরিক দুঃসাহসিকতার নামমাত্র যুক্তি হলো তথাকথিত ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ ধ্বংস করা। ইতিহাসজুড়ে বিভিন্ন সরকার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের নেতাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে সামরিক আগ্রাসনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযান হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ক্ষেত্রে সেই দাবি বিশেষভাবে হাস্যকর। কারণ, ভেনেজুয়েলা ফেন্টানিল বা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ওভারডোজ সংকটের জন্য দায়ী অন্য মাদকের বড় উৎপাদক দেশ নয়।
আর দেশটি যে কোকেন উৎপাদন করে, তার বড় অংশই যায় ইউরোপে। একই সময়ে ট্রাম্প যখন ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলা চালাচ্ছিলেন, তখন তিনি হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন, যিনি ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে বিশাল মাদক চক্র পরিচালনা করেছিলেন।
ভেনেজুয়েলার ওপর হামলার আরও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ট্রাম্পের সদ্য প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে। সেখানে বলা হয়েছে, লাতিন আমেরিকায় আধিপত্য বিস্তারের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘদিনের অবহেলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও মনরো নীতি কার্যকর ও প্রয়োগ করবে, যাতে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।’
‘ট্রাম্প করোলারি’ নাম দেওয়া এই নথির আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মোতায়েন সেনা প্রত্যাহার করে এই অঞ্চলে আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে। সমুদ্রে মাদক পাচাররোধ, অভিবাসী ও মাদক বহনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার এবং প্রয়োজনে আরও মার্কিন সেনা মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা কার্যত এ নতুন যুগের সাম্রাজ্যবাদের প্রথম শিকার। এটি বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিপজ্জনক ও অবৈধ দৃষ্টিভঙ্গি। আন্তর্জাতিক বৈধতা, সুনির্দিষ্ট আইনি কর্তৃত্ব বা ঘরোয়া সমর্থন—কোনোটিই ছাড়া হামলা চালিয়ে ট্রাম্প চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য স্বৈরশাসকদের হাতে অজুহাত তুলে দিচ্ছেন, যাতে তারা নিজেদের প্রতিবেশীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালানোর সেই মার্কিন অহংকারকেই আবার ফিরিয়ে আনছেন।
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প একসময় সামরিক বাড়াবাড়ির সমস্যাগুলো স্বীকার করেছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি ছিলেন বিরল কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার একজন, যিনি জর্জ ডব্লিউ বুশের ইরাক যুদ্ধকে ভুল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যুদ্ধ শুরু করব না। আমি যুদ্ধ থামাব।’
এখন ট্রাম্প নিজেই সেই নীতি থেকে সরে আসছেন এবং তা করছেন অবৈধভাবে। সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এটা ঠিক, অনেক প্রেসিডেন্ট এই সীমা অতিক্রম করেছেন। তবে বুশ ইরাক আগ্রাসনের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েছিলেন। তাঁর পরের প্রেসিডেন্টরা ২০০১ সালের আইন দেখিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ওপর ড্রোন হামলার বৈধতা দিয়েছেন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার ওপর হামলার পক্ষে এমন কোনো আইনি আড়ালও নেই।
সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রেসিডেন্টকে জনসমক্ষে তাঁর পরিকল্পনার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে বাধ্য করবে। ইরাক যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেওয়া ডেমোক্র্যাট নেতা হিলারি ক্লিনটন, জন কেরিসহ দলটির অনেক নেতা বহু বছর রাজনৈতিক মূল্য দিয়েছেন। বিপরীতে, বার্নি স্যান্ডার্স ও বারাক ওবামার মতো সমালোচকেরা পরে দূরদর্শী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও কংগ্রেসীয় বিতর্ক ট্রাম্পের যুক্তির দুর্বলতাই প্রকাশ করত। তাঁর প্রশাসন দাবি করছে, ছোট নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি। কিন্তু বহু আইনি ও সামরিক বিশেষজ্ঞ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সাধারণ বুদ্ধিও বলে, মাদক পাচারের চেষ্টা, যদি সত্যিই সেটাই হয়ে থাকে, কোনো দেশের সরকার উৎখাত বা সেনাবাহিনীকে পরাজিত করার সমান নয়।
আমাদের ধারণা, ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন চাননি। কারণ তিনি জানেন, কংগ্রেসে তাঁর দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও অনেকে তাঁর এ পথচলা নিয়ে গভীরভাবে সন্দিহান। মাদুরোকে আটক করার আগেই রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ও লিসা মারকাউস্কি এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডন বেকন ও থমাস ম্যাসি এমন একটি আইনের পক্ষে ছিলেন, যা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করত।
ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা হামলার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বড় যুক্তি হলো, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। তিনি যেসব নৌযানে হামলা করেছেন, সেগুলোতে থাকা মানুষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে কেবল সন্দেহের বশে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং পরবর্তী সব বড় মানবাধিকার চুক্তি এমন বিচারবহির্ভূত হত্যাকে নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনও তাই বলে।
ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্টতই নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে। একটি ঘটনায় নৌবাহিনী প্রথম হামলার প্রায় ৪০ মিনিট পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি নৌযানে দ্বিতীয়বার হামলা চালায়। এতে দুজন নাবিক নিহত হন, যাঁরা নৌকার ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে ছিলেন এবং কোনো হুমকি সৃষ্টি করছিলেন না। আমাদের সহকর্মী, সাবেক মার্কিন সেনা আইনজীবী ডেভিড ফ্রেঞ্চ যেমন লিখেছেন, ‘আইনই যুদ্ধ আর হত্যার পার্থক্য তৈরি করে দেয়।’
আইনি যুক্তিগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিতেও এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে নয়। সবচেয়ে কাছাকাছি তুলনা হতে পারে ৩৬ বছর আগে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের পানামা আগ্রাসন, যেখানে স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে সরিয়ে দিয়ে দেশটিকে গণতন্ত্রের পথে ফেরানো হয়েছিল। কিন্তু ভেনেজুয়েলা অনেক দিক থেকেই ভিন্ন। পানামা ছোট দেশ ছিল এবং পানামা খালের কারণে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি ছিল।
ভেনেজুয়েলায় বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা অনেক বেশি। মাদুরোর শাসন টিকিয়ে রাখা জেনারেলরা হঠাৎ হারিয়ে যাবেন না। তাঁরা সহজে ক্ষমতা তুলে দেবেন না মারিয়া কোরিনা মাচাদোর হাতে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাঁর আন্দোলন জয়ী হয়েছে বলে মনে করা হয়। গত মাসে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।
ভেনেজুয়েলায় হামলার পর সম্ভাব্য খারাপ পরিণতির মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় কলম্বিয়ার বামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইএলএনের সহিংসতা বৃদ্ধি কিংবা মাদুরো আমলে ক্ষমতার আশপাশে থাকা সশস্ত্র ‘কালেক্টিভোস’ গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা। ভেনেজুয়েলায় নতুন অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যের বাজারকে নাড়িয়ে দিতে পারে। আরও বেশি ভেনেজুয়েলান দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন।
তাহলে এ অঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্যও চ্যালেঞ্জ—ভেনেজুয়েলায় এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে মোকাবিলা করবে। আমরা হতাশ ভেনেজুয়েলাবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একমত, যাঁদের কেউ কেউ মার্কিন হস্তক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। কিন্তু সহজ কোনো সমাধান নেই। এত দিনে বিশ্বের বোঝা উচিত, শাসন পরিবর্তনের ঝুঁকি কতটা গভীর।
আমরা আশা রাখতে চাই, এ সংকটের পরিণতি আমাদের আশঙ্কার চেয়ে কম ভয়াবহ হবে। তবে আমাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এ ‘দুঃসাহসিকতার’ ফল হবে ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য আরও দুর্ভোগের, এই অঞ্চলে বাড়তি অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি। আমরা জানি, ট্রাম্পের যুদ্ধোন্মাদ আচরণ যেকোনো আইনের লঙ্ঘন।