কলম্বিয়া ও বলিভিয়ার পতাকা
কলম্বিয়া ও বলিভিয়ার পতাকা

একে অপরের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার করল বলিভিয়া ও কলম্বিয়া

বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজসহ প্রধান শহরগুলোতে সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কলম্বিয়ার সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এর জেরে গতকাল বুধবার দুই দেশ একে অপরের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার করেছে।

বলিভিয়া সরকারের দাবি, দেশটিতে চলমান বিক্ষোভকে গণ–অভ্যুত্থান আখ্যা দিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। এ অভিযোগে বলিভিয়ায় নিযুক্ত কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূত এলিজাবেথ গার্সিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জবাবে কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বোগোতায় নিযুক্ত বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত আরিয়েল পার্সি মোলিনা পিমেন্টেলকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। ডানপন্থী সরকারগুলোর তীব্র সমালোচক হিসেবে পরিচিত কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো গত সপ্তাহে বলিভিয়ার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে গণ–অভ্যুত্থান বলে মন্তব্য করেন ও সংকট সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন।

বলিভিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকারচর্চা রোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতেই কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে পেত্রো এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এটি বলিভিয়া সরকারের চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রমাণ। সংলাপ না হলে সেখানে ‘গণহত্যা’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বলিভিয়ার নতুন উদার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির কৃষক, সাধারণ শ্রমিক ও খনিশ্রমিকেরা টানা বিক্ষোভ করছেন। রদ্রিগো পাজ প্রশাসন এ বিক্ষোভকে সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের ‘অভ্যুত্থান চেষ্টা’ বলে অভিযোগ করেছে। মোরালেস বর্তমানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে পাচারের এক মামলায় পলাতক আসামি।

রদ্রিগো পাজ সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এ বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থান চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।

গত বছর চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বলিভিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রদ্রিগো পাজ। তিনি মোরালেসের হাত ধরে শুরু হওয়া দুই দশকের সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটান।

ডলারের রিজার্ভ ধরে রাখতে রদ্রিগো পাজ দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করেন, যা দেশটির অর্থনীতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। গত সোমবারও লাপাজে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।