কিউবার জলসীমায় সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিবন্ধিত একটি স্পিডবোটের চারজন নিহত হয়েছেন। কিউবা সরকারের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবার নাগরিক এবং তারা ‘সন্ত্রাসবাদী’ উদ্দেশ্যে দেশটিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল।
গতকাল বুধবার উত্তর উপকূলের ভিলা ক্লারা প্রদেশের কায়ো ফ্যালকোনস দ্বীপের কাছে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী স্পিডবোটটি শনাক্ত করতে এগিয়ে গেলে সেখান থেকে প্রথমে গুলি চালানো হয়। এতে কিউবান কমান্ডার আহত হন। পাল্টা জবাবে কোস্টগার্ড গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই স্পিডবোটের চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হন।
কিউবার দাবি, নৌযানটি থেকে বিপুল পরিমাণ হ্যান্ডগান, অ্যাসল্ট রাইফেল ও হাতে তৈরি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অনেকেরই আগের অপরাধমূলক ও সহিংস কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। এ ছাড়া এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্বভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করছে। সেন্ট কিটস ও নেভিস সফররত রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘খোলা সমুদ্রে এমন গোলাগুলি সচরাচর দেখা যায় না। আমরা কিউবা সরকারের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে তদন্ত করছি।’
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান নেতারা এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এর কঠোর জবাবদিহি দাবি করেছেন। কংগ্রেস সদস্য কার্লোস গিমেনেজ ও সিনেটর রিক স্কট এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
এমন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটল, যখন কিউবা মারাত্মক জ্বালানি–সংকটে ভুগছে এবং ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
ঠিক ৩০ বছর আগে কিউবা ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামের একটি সংস্থার উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার বার্ষিকী পালনের ঠিক এক দিন পরই এই হতাহতের খবর এল।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।