কারাকাসে আয়োজিত ‘প্রমোশন অ্যান্ড ডেকোরেশন ফর হিরোস অ্যান্ড মার্টায়ার্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এ শোকসভায় দুই নেতা সংহতি প্রকাশ করেন
কারাকাসে আয়োজিত ‘প্রমোশন অ্যান্ড ডেকোরেশন ফর হিরোস অ্যান্ড মার্টায়ার্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ও কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এ শোকসভায় দুই নেতা সংহতি প্রকাশ করেন

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভেনেজুয়েলা ছাড়ছে কিউবার নিরাপত্তা বাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপের মুখে ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যাচ্ছেন কিউবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও চিকিৎসকেরা। দীর্ঘদিনের মিত্র কারাকাস ও হাভানার মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরাতেই এ চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ১১টি সূত্র এমনটা জানিয়েছে।

এর মধ্যে চারটি সূত্রের তথ্যমতে, দেলসি রদ্রিগেজ এখন নিজের নিরাপত্তার জন্য দেশীয় দেহরক্ষীদের ওপরই আস্থা রাখছেন। তবে সম্প্রতি কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে তিনি এবং তাঁর আগের প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য কিউবার অভিজাত বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

নিকোলা মাদুরোকে সরানোর অভিযানের আগে হাজার হাজার কিউবান চিকিৎসক, নার্স ও ক্রীড়া প্রশিক্ষক হুগো চাভেজের সময় শুরু হওয়া কল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলায় কাজ করতেন। বিনিময়ে দেশটি কিউবাকে প্রয়োজনীয় তেলের জোগান দিত।

কিউবা সরকার জানিয়েছে, ৩ জানুয়ারি নিকোলা মাদুরোকে আটকের লক্ষ্যে পরিচালিত মার্কিন অভিযানে কিউবার ৩২ সেনা ও দেহরক্ষী নিহত হন।

২০০০-এর দশকের শেষের দিকে কারাকাস ও হাভানার মধ্যে হওয়া একটি নিরাপত্তাচুক্তির অংশ হিসেবে এই সেনা ও দেহরক্ষীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। চুক্তির আওতায় কিউবার গোয়েন্দারা ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী এবং শক্তিশালী কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ডিজিসিআইএম) সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ভেনেজুয়েলা–বিশেষজ্ঞ আলেজান্দ্রো ভেলাস্কো বলেন, হুগো চাভেজ সরকারের টিকে থাকার জন্য কিউবান প্রভাব ছিল অপরিহার্য।

ভেনেজুয়েলার এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ডিজিসিআইএমের ভেতর থেকে কিউবার বেশ কিছু উপদেষ্টাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার কিছু চিকিৎসাকর্মী ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিমানযোগে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় চলে গেছেন।

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন চাপের কারণে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের নির্দেশেই কিউবানরা ভেনেজুয়েলা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

তবে আসলেই কি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের চাপে কিউবানরা দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন, নাকি স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছেন কিংবা হাভানা তাদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে—এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি অন্য সূত্রগুলো।

প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী ও কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে কিউবানদের সরিয়ে দেওয়ার এ খবর আগে প্রকাশিত হয়নি।

ভেনেজুয়েলা-কিউবা সম্পর্ক ভেঙে দিতে চান ট্রাম্প

নিকোলা মাদুরোকে সরানোর অভিযানের আগে হাজার হাজার কিউবান চিকিৎসক, নার্স ও ক্রীড়া প্রশিক্ষক হুগো চাভেজের সময় শুরু হওয়া কল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলায় কাজ করতেন। বিনিময়ে কিউবাকে প্রয়োজনীয় তেলের জোগান দিত দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও কিউবার মধ্যকার সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। গত ১১ জানুয়ারি তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর টিকে ছিল। বিনিময়ে কিউবা ভেনেজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসককে নিরাপত্তা দিয়েছে, কিন্তু এখন আর নয়!’

কিউবার কমিউনিস্টশাসিত সরকারের পতনের জন্য ওয়াশিংটনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হলো ভেনেজুয়েলার সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ছিন্ন করা। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি।