
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার–প্রচারণা শুরু করেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ প্রভাবশালী বিদেশি নেতাদের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোকে দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিলে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। গতকাল শনিবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তিনি।
লিবারেল পার্টির জাতীয় সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ফ্লাভিও বলসোনারো বলেন, ‘এটি শুধু একটি দলীয় সম্মেলন নয়; এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের সূচনা। এটি ভালো ও মন্দের মধ্যকার একটি যুদ্ধ।’
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ফ্লাভিও বলসোনারো বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার চেয়ে পিছিয়ে আছেন। একের পর এক রাজনৈতিক ধাক্কা ও বিতর্কের কারণে তাঁর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার গতি ফিরে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
গতকালের সম্মেলনে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি হাভিয়ের মিলেই ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিদেশি নেতাদের সমর্থনের বার্তা তুলে ধরা হলেও ব্রাজিলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি ছিল খুব কমই। মধ্যডানপন্থী দলগুলোও ফ্লাভিওর প্রচার থেকে অনেকটাই দূরে আছে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম নেতানিয়াহুর বার্তাটি প্রকাশ করেছে। এতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘বন্ধু ফ্লাভিও, আপনার নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য অভিনন্দন জানাই। আপনি ব্রাজিলকে নেতৃত্বদানকারী এক অসাধারণ ব্যক্তি। আপনি আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বেরও একজন বড় সমর্থক।’
ফ্লাভিওর বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো বন্দী থাকায় তিনি গতকালের সম্মেলনে সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও বার্তা উপস্থাপন করা হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন জইর বলসোনারো।
সম্মেলনে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই কড়া ভাষায় প্রেসিডেন্ট লুলার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ফ্লাভিও বলসোনারোই ব্রাজিলকে ‘সমাজতন্ত্রের হাত’ থেকে রক্ষা করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের আগের রাতে মিলেই ব্রাজিল পৌঁছান। গতকাল সাও পাওলোর গভর্নর তারসিসিও দে ফ্রেইতাসের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
মিলেই বলেন, ‘সমাজতন্ত্রের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আমরা বিশ্বের সর্বত্র আমাদের অবস্থান তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাব।’
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি তাঁর সমর্থন জানান।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলেস নেতানিয়াহুর বার্তাটি প্রকাশ করেছে। এতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘বন্ধু ফ্লাভিও, আপনার নির্বাচনী প্রচারের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য অভিনন্দন জানাই। আপনি ব্রাজিলকে নেতৃত্বদানকারী এক অসাধারণ ব্যক্তি। আপনি আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধুত্বেরও একজন বড় সমর্থক।’
প্রেসিডেন্ট লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী ২ আগস্ট তাদের জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করবে। সেখানে ৮০ বছর বয়সী লুলার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার কথা আছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো ও তাঁর মিত্ররা সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে নিজেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নির্বাচনী প্রচারে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একে অনেক ব্রাজিলীয় নাগরিক বিদেশি হস্তক্ষেপের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
বাবা জইর বলসোনারোর মতোই ফ্লাভিও বলসোনারোও ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। সমালোচকদের মতে, নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হলে ভোটের ফলাফলের বৈধতা অস্বীকার করার সম্ভাব্য চেষ্টার ক্ষেত্র তৈরি করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি গতকাল বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্রাজিল। তারা দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।