
মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধানেরা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর তাঁদের সবশেষ মূল্যায়ন উপস্থাপন করতে সমবেত হয়েছিলেন। এই শুনানিতে তাঁরা জানান, সিরিয়া ও ইরাকে আইএস এখনো তৎপর। নিজেদের সব পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংসে উত্তর কোরিয়ার কোনো আগ্রহ নেই। আর ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেই চুক্তি তারা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছে।
কংগ্রেসের এই উন্মুক্ত শুনানিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন না। টেলিভিশনে তাঁদের কথা ও বিভিন্ন ভাষ্যকারের মন্তব্য শুনে দারুণ খেপেছেন তিনি।
শুনানির আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর দেশের সব পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করবে। অন্যদিকে, ইরান গোপনে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে। ইরানের এই তৎপরতার ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। তাই তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বারবার যে কথা বলে এসেছেন, তাঁর গোয়েন্দাপ্রধানেরা কংগ্রেসের শুনানিতে বললেন ঠিক তার উল্টো কথা। ব্যাপারটায় ট্রাম্প এতটাই ক্ষিপ্ত হয়েছেন যে গতকাল বুধবার সকালে একের পর এক টুইটে নিজ সরকারের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নির্বোধ বলে তাঁদের মূল্যায়ন খারিজ করে দেন।
গোয়েন্দা মূল্যায়ন ভুল—এই দাবি করে ট্রাম্প তাঁর সরকারের সব গোয়েন্দাকে ফের স্কুলে ফিরে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প বরাবর বলে এসেছেন, তিনি সব ব্যাপারেই অন্য সবার চেয়ে বেশি জানেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি দাবি করেছিলেন, সমর প্রস্তুতি ও আইএসের ব্যাপারে তিনি জেনারেলদের চেয়েও বেশি জানেন। রাশিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় নাক গলাচ্ছে, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন।
সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার পেছনে সে দেশের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত বলে গোয়েন্দা বিভাগের মূল্যায়নের ব্যাপারেও ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এমন সব সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে কি না, তা তিনি কখনো খোলাসা করে বলেননি।
নিজ সরকারের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বুদ্ধিমত্তা ও মূল্যায়নের ব্যাপারে ট্রাম্পের এই আক্রমণ রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক কোনো দলের নেতাদের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস সদস্য জ্যাকি স্পিয়ার বলেছেন, ট্রাম্প যেভাবে দেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আক্রমণ করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশের জন্য তিনি নিজেই একটি নিরাপত্তা হুমকি। গোয়েন্দা বা সামরিক কর্মকর্তাদের এভাবে আক্রমণ করা মোটেই স্বাভাবিক ব্যাপার নয়।
উইসকনসিন থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক গ্যালাঘার বলেছেন, গোয়েন্দারা তো প্রেসিডেন্টের অ্যাজেন্ডাই অনুসরণ করছেন। ট্রাম্পই তো গোয়েন্দাপ্রধানদের মনোনীত করেছেন। তারপরেও তিনি কেন তাঁদের সমালোচনা করছেন, তা পরিষ্কার নয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক ভাষ্যকার মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পের কাছে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হলে তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেন। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ক্ষতিকর।
মঙ্গলবার যেসব গোয়েন্দা কর্তা কংগ্রেসর শুনানিতে অংশ নেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান ড্যান কোটস, এফবিআইয়ের প্রধান ক্রিস্টোফার রে ও সিআইএর প্রধান জিনা হাস্পেল।