
২২ মে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নির্বাচনের বাছাইপর্বের নির্বাচন। এ নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিরাও অংশ নিচ্ছেন।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের নরক্রস, লিলবার্ন ও লরেন্সভিল সিটি নিয়ে গঠিত জর্জিয়ার নির্বাচনী এলাকা ডিস্ট্রিক্ট-৫-এ ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিয়ে স্টেট সিনেটর পদে প্রাথমিক বাছাইপর্বে লড়বেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক শেখ মোজাহিদুর রহমান চন্দন। সংক্ষেপে শেখ রহমান।
তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্কে ২৮ এপ্রিল অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান লেবারের (অ্যাসাল) উদ্যোগে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে কাবাব কিং রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য দেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মাফ মিসবাহউদ্দিন।
গ্রেস মেং তাঁর বক্তব্যে নিজেকে বাংলাদেশিদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘গত ১০ বছরে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসসহ অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের হাজারখানেক আসন হারিয়েছে। সেগুলো রিপাবলিকানদের দখলে চলে গেছে। এ অবস্থার অবসানে সবাইকে সংঘবদ্ধ হতে হবে। গত এক বছরে আমরা মাত্র ৪০টি আসন পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছি। সামনের নির্বাচনে কংগ্রেসের অধিকাংশ আসন দখলে নিতে হবে। এ জন্য যাঁরা ইতিমধ্যেই নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের উচিত হবে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া।’
নিউইয়র্কে কংগ্রেসওম্যান অভিন্ন ভাষায় সবাইকে ট্রাম্প প্রশাসনের অ-আমেরিকান কর্মকাণ্ড রুখে দেওয়ার আহ্বান জানালেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতা আজ আক্রান্ত। মানবিক মূল্যবোধে শ্রদ্ধাহীন ব্যক্তির কবলে পড়েছে আমেরিকা। এ থেকে উত্তরণে সবাইকে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনেই শুধু নয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে হবে।’
ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে একমাত্র দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশি শেখ রহমান বলেন, ‘এখন সময় হচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর। বাসন-কোসন ধোয়ার কাজের মাধ্যমে আমার প্রবাসজীবন শুরু। ১৪ বছর লেগেছে কলেজ-ভার্সিটির লেখাপড়া শেষ করতে। আর আজকের এ অবস্থানে আসতে সময় লেগেছে ৩৫ বছর। আমি সবার প্রতি অনুরোধ রাখতে চাই, একবার হেরে গেলেই হাল ছেড়ে দেবেন না। এটি হচ্ছে ভাগ্য গড়ার অপূর্ব সুযোগের একটি স্থান। চেষ্টা করলে ভাগ্য প্রসন্ন হবেই। ডেমোক্রেটিক পার্টিতে আমি এবং গ্রেস মেং এশিয়ান। এটি ইতিহাস। গ্রেস মেং ভোটে জয়ী হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আমি নির্বাহী সদস্য হয়েছি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় উভয়ই রয়েছে। একবার হারলেই যেন কেউ হতাশ না হন।’
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কংগ্রেসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সদস্য কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের জাতীয় কমিটির সভাপতি এ কে এ মোমেন, কমিউনিটি লিডার মোর্শেদ আলম, ফখরুল আলম, খোরশেদ খন্দকার, গিয়াস আহমেদ, হাসানুজ্জামান হাসান, করিম চৌধুরী, আসালের জর্জিয়া চ্যাপ্টারের সভাপতি ও শেখ রহমানের প্রচার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হোসেন, এ কে এম নূরুল হক এবং সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান। সবাই শেখ রহমানের বিজয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
এ সময় বক্তব্যে মোর্শেদ আলম বলেন, ‘স্টেট সিনেট নির্বাচনে ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েও হেরে গেছি। কারণ, ডেমোক্র্যাটরাই আমাকে ভোট দিতে কার্পণ্য করেছেন। অথচ ফ্লাশিংয়ের চীনারা দলে দলে ভোট দিয়েছেন। সে ঋণ আমি কখনো ভুলব না।’ এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেন, ‘চীনারা মোর্শেদ আলমকে আস্থায় (অ্যাডপ্ট) নিয়েছিলেন। এর প্রতিদান হিসেবে জ্যামাইকার বাংলাদেশিরা আমাকে আস্থায় নিয়েছেন। তাঁরা আমার পক্ষে রয়েছেন সব সময়।’
কংগ্রেসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সদস্য কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্য আজ ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পথে। এ অবস্থা থেকে আমেরিকাকে রক্ষায় চাই সবার ঐক্য। বাংলাদেশিরা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি সবার ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়াও জরুরি।’ কংগ্রেসম্যান মিক্স জোর দিয়ে বলেন, ‘আমেরিকাকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম রাষ্ট্রে পরিণত করতে বাংলাদেশি অভিবাসীরাও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। তাই মার্কিন প্রশাসনে অভিবাসীদের সম্মান অটুট রাখতে ডেমোক্র্যাটরা বদ্ধপরিকর।’
মাফ মিসবাহ বলেন, ‘ঐক্যের বিকল্প নেই। আর এ ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। মূলধারায় প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করতে আমরা “আসাল”-এর মাধ্যমে নেটওয়ার্ক রচনা করছি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কমিটি হয়েছে। অন্য সব রাজ্যেও কমিটি গঠনের চেষ্টা চলছে। এভাবেই নিজেদের মধ্যকার সাংগঠনিক সম্পর্ক সুসংহত রাখতে পারলে যেকোনো নির্বাচনে আমাদের সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় আনা সম্ভব।’