নিউইয়র্ক নগর নির্বাচন

সময় ২০২১ সালে হলেও এখনই আলোচনায় তাঁরা

নিউইয়র্ক নগরের মেয়র পদে নির্বাচনের এখনো ঢের সময় বাকি। কিন্তু এরই মধ্যে নানা কাজের মাধ্যমে মাঠে নেমে পড়েছেন আগামী নির্বাচনের ৫/৬ জন সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী। মেয়র নির্বাচন নিয়ে কথাবার্তা শুরু করে দিয়েছেন ব্রঙ্কস বরো প্রেসিডেন্ট রুবিন দিয়াজ জুনিয়র। তবে তাঁর চেয়ে আলোচনায় এগিয়ে আছেন সিটি কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গার। গত নির্বাচনেই মেয়র রবার্ট ডি ব্লাজিওর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় ছিল তাঁর নাম।
এই দুইজন ছাড়াও মেয়র পদে লড়াইয়ের দৌড়ে আছেন ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট এরিক অ্যাডাম, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কার্টজ ও নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট ল্যাটিসিয়া জেমস। তবে জোর আলোচনা আছে কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরিকে নিয়েও। সব মিলিয়ে, আগামী দিনে নিউইয়র্ক শহরের নেতৃত্বে কে আসবেন, সেটা নিয়ে এখন থেকেই এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
রুবিন দিয়াজ জুনিয়ার গত ফেব্রুয়ারিতে ২০২১ সালের নির্বাচনের প্রচারণার জন্য ইতিমধ্যে ক্যাম্পেইন ব্যাংক হিসাব খুলেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর পাশাপাশি ক্যাম্পেইন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন দুই নারী ল্যাটিশিয়া জেমস ও মেলিন্ডা কার্টজ। ফলে দলের প্রাথমিক বাছাইয়ে যে এই তিনজন নাম লিখিয়েছেন সেটা বলা যায়। অবশ্য এখনই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তাঁরা। তবে নিউইয়র্কভিত্তিক নানা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কট স্ট্রিঙ্গার, হাকিম জেফরি ও এরিক অ্যাডামও সহসা মাঠে নামতে পারেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ৪৪ বছর বয়সী রুবিন দিয়াজের বাবা বর্তমানে নিউইয়র্ক নগরের কাউন্সিলর হিসেবে ২০১৭ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। এর আগে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একজন সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে কারণে গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর সঙ্গে জুনিয়র দিয়াজের সখ্য বেশ পুরোনো। কুমোকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ব্রঙ্কসের নানা উন্নয়নকাজ পরিচালনা করছেন এবং নিজের প্রার্থিতায় সমর্থন আনতে কুমোকে পাশে রাখতে চাইছেন।
অন্যদিকে এরিক অ্যাডামস সাবেক পুলিশ কমিশনার হিসেবে এরই মধ্যে কমিউনিটিতে পুলিশ ও মানুষের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। বর্তমান সিটি কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গারের জনসমর্থন সবচেয়ে বেশি বলে জানাচ্ছে কুইনিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপ। এমনকি নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন যেখানে ১৯ শতাংশ, সেখানে স্কট স্ট্রিঙ্গারের সমর্থন প্রায় ৫৫ শতাংশ। সম্ভাব্য মেয়র দৌড়ে অন্য দুই প্রার্থী ল্যাটিশিয়া জেমসের সমর্থন ৪৬ শতাংশ। তবে এই তালিকায় ব্রুকলিন থেকে নির্বাচিত আরেক কাউন্সিলম্যান কোরে জনসনের নাম আছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, তাঁর জনসমর্থন রয়েছে প্রায় ৪৩ ভাগ।
এসব প্রার্থীর মধ্যে ল্যাটিশিয়া জেমস একমাত্র আফ্রিকান আমেরিকান বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে প্রথমবার ২০১৩ সালে নির্বাচিত হন এবং ২০১৭ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে পাবলিক অ্যাডভোকেট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সব কমিউনিটির কাছে যাচ্ছেন এবং অভিবাসন আর নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখতে শক্ত ভূমিকাও রাখছেন।
নিউইয়র্কের জুইশ কমিউনিটিতে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে স্কট স্ট্রিঙ্গার বেশ আলোচিত। তিনি আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এশীয়দের সমর্থন বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। অন্যদিকে, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট মেলিন্ডা কার্টজ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে অভিবাসী সম্প্রদায় ও কমিউনিটির নানা মানুষের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি জ্যামাইকায় কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্টদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন।
আর কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরি এখনই কেন্দ্রীয় রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি নিউইয়র্ক নগরের মেয়র পদে আসবেন কিনা এখনই জানা যায়নি, তবে ঘনিষ্ঠদের কাছে নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার ব্যাপারে তাঁর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়েছে।
মেয়রপদে মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব রাজনীতিক নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এত দিন ধরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেও এখন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আলাদা করে ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন, চেষ্টা করছেন ভোটার মধ্যে আলোচনায় থাকতে। এই প্রার্থীদের মধ্য থেকেই কেউ আগামী দিনের নিউইয়র্ক নগরের মেয়র হবেন কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।