
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স তাঁর স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে গুলি করে হত্যা করেছেন। পরে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ডেমোক্রেটিক পার্টির একসময়ের উদীয়মান এই নেতার ক্যারিয়ার যৌন হয়রানির অভিযোগে অনেকটা থমকে গিয়েছিল।
স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাতে ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল এলাকায় ফেয়ারফ্যাক্সের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় এই দম্পতির দুই কিশোর সন্তান বাড়িতেই ছিল। তাঁদের এক ছেলেই ৯১১ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেয়।
বাড়ির ভেতরে লাগানো অনেকগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, জাস্টিন প্রথমে বেজমেন্টে তাঁর স্ত্রীকে কয়েকটি গুলি করেন। পরে ওপরে শোবার ঘরে গিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশপ্রধান কেভিন ডেভিস জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ছিল একটি ‘জটিল ও তিক্ত’ বিবাহবিচ্ছেদ–সংক্রান্ত বিবাদ।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্স বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। ঘটনার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আদালত সন্তানদের মূল অভিভাবকত্ব মা সেরিনাকে দিয়েছিলেন।
২১ এপ্রিল জাস্টিনের আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল।
আদালতের নথি অনুযায়ী, জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স কয়েক বছর ধরে গভীর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
২০১৯ সালে ফেয়ারফ্যাক্সের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পতন তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
বিচারক জানিয়েছিলেন, এসব ঘটনায় হতাশা থেকে ফেয়ারফ্যাক্স অতিরিক্ত মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং পরিবারের প্রতি উদাসীন ছিলেন।
২০২২ সালে সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর একবার পিস্তলসহ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে একটি পার্কের জঙ্গলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়।
জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কাজ করেছেন। তিনি একে একটি ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
ফেয়ারফ্যাক্সের স্ত্রীকে হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিবেশীরা স্তম্ভিত। তাঁরা সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে একজন নিবেদিতপ্রাণ মা হিসেবে জানতেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতারা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ভার্জিনিয়ার বর্তমান গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্জার ও সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার এটিকে এক ‘ভয়াবহ দুঃখজনক’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফেয়ারফক্স দম্পতির দুই সন্তান বর্তমানে তাদের দাদা-দাদি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।