
প্রায় দুই দশক আগে পর্তুগালের একটি রিসোর্ট থেকে নিখোঁজ হয়েছিল তিন বছর বয়সী যুক্তরাজ্যের শিশু মেডেলিন ম্যাকক্যান। এত বছর পর দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিন–সংশ্লিষ্ট নথির সুবাদে শিশুটির নাম আবারও সামনে এসেছে।
সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন ও তাঁর সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের মামলাসংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এমনই এক নথিতে মেডেলিনকে নিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শীর একক ও বিচ্ছিন্ন জবানবন্দি পাওয়া গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই জবানবন্দি থেকে মেডেলিনের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে এপস্টিন বা গিলেনের সরাসরি জড়িত থাকার কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ তথ্যের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তদন্তও শুরু হয়নি।
এপস্টিনের নথিতে মেডেলিন ম্যাকক্যান
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও জনচাপের মুখে এপস্টিন মামলার লাখ লাখ পৃষ্ঠার আদালতের নথি, জবানবন্দি ও সাক্ষীর বিবরণ জনসমক্ষে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ইএফটিএ০১২৪৯৬১৮’ চিহ্নিত একটি নথিতে মেডেলিন ম্যাকক্যানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মূলত ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার বিবরণ। এক অজ্ঞাতপরিচয় প্রত্যক্ষদর্শী এই বিবরণ দিয়েছেন।
ওই প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৯ সালের এক রোববার তিনি রাস্তায় হাঁটার সময় এক নারী ও একটি ছোট শিশুকে দেখতে পান। তাঁদের কয়েক মিটার সামনে একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষও ছিলেন। শিশুটির কাছাকাছি যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়, শিশুটি দেখতে হুবহু নিখোঁজ মেডেলিন ম্যাকক্যানের মতো।
জবানবন্দিতে বলা হয়, প্রত্যক্ষদর্শীকে দেখে ওই নারী বেশ বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি শিশুটিকে নিয়ে দ্রুত কেটে পড়ার চেষ্টা করছিলেন। শিশুটি পুরোটা সময় তার ডান চোখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিল এবং বারবার পেছনের দিকে তাকাচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী তখন বিষয়টি একটি ওয়েবসাইটে রিপোর্ট করলেও পুলিশকে জানাননি। কয়েক বছর পর গিলেন ম্যাক্সওয়েলের গ্রেপ্তারের খবর দেখে তিনি আবার বিষয়টি জানান। তিনি দাবি করেন, সেই নারী দেখতে গিলেনের মতোই ছিলেন।
ডান চোখের সেই বিশেষ চিহ্ন
মেডেলিন ম্যাকক্যানের নিখোঁজ সংবাদে সব সময়ই তার ডান চোখের একটি বিশেষ চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হতো। তার আইরিসে ‘কোলোবোমা’ নামক একটি বিরল দাগ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় মেয়েটির বারবার ডান চোখ ঢেকে রাখার বিষয়টি এই কারণেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০০৯ সালে মেডেলিনের বয়স হওয়ার কথা ছিল ছয় বছর, যা ওই প্রত্যক্ষদর্শীর দেখা শিশুটির বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পুরোনো সেই স্কেচ
এই আলোচনার রেশ ধরে ২০০৯ সালে প্রকাশিত একটি ‘ই-ফিট’ বা ইলেকট্রনিক স্কেচও আবার সামনে এসেছে। মেডেলিনের মা–বাবার নিয়োগ করা বেসরকারি গোয়েন্দারা ওই সময় ভিক্টোরিয়া বেকহামের মতো দেখতে এক নারীর স্কেচ প্রকাশ করেছিলেন।
দাবি করা হয়েছিল, ২০০৭ সালের ৭ মে (নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর) বার্সেলোনায় এক নারীর কাছে মেডেলিনকে দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি অনলাইনে অনেকেই সেই স্কেচের সঙ্গে গিলেন ম্যাক্সওয়েলের চেহারার মিল খুঁজছেন।
নিখোঁজ রহস্যের দুই দশক
২০০৭ সালের ৩ মে পর্তুগালের আলগারভ অঞ্চলের প্রাইয়া দা লুজ রিসোর্ট থেকে নিখোঁজ হয় মেডেলিন। তার বাবা-মা কেট ও জেরি ম্যাকক্যান পাশেই একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করছিলেন। সেই রাত থেকেই শুরু হয় তল্লাশি।
পর্তুগিজ পুলিশ শুরুতে একে অপহরণ বললেও বছরের পর বছর তদন্তে কোনো কূলকিনারা হয়নি। আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত এই নিখোঁজ রহস্য আজও এক অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।