
পারস্য উপসাগরে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন এক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেহরান অন্তত আরও চার মাস নৌ অবরোধ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা জানান, সিআইএর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের ফলে অন্তত আগামী চার মাস দেশটিতে বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে না। এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টির সুযোগ এখনো সীমিত। ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করে। তবে এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এই বিশ্লেষণকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, অবরোধের ফলে ইরানের রাজস্ব আয় কমে গেছে এবং দেশটিতে পদ্ধতিগত অর্থনৈতিক ধস ত্বরান্বিত হচ্ছে।
এক মাস আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতও নতুন করে হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিবদমান বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আগে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে একটি মার্কিন প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।
গত শুক্রবার রোমে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আজ কিছু একটা জানার অপেক্ষায় আছি। তাদের পক্ষ থেকে জবাব প্রত্যাশা করছি।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেহরান এখনো প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে।
এদিকে ইরানের আধা সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও মার্কিন জাহাজের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকারী দুটি সন্দেহভাজন জাহাজে বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলোকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান ওই প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে। গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ছাড়িয়েছে।
সংঘাত জলপথ ছাড়িয়েও ছড়িয়ে পড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, শুক্রবার তারা ইরান থেকে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করেছে। এই যুদ্ধে ইরান বারবার সেই সব উপসাগরীয় দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র হঠকারী সামরিক পথ বেছে নেয়।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ড্রোন তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে চীন ও হংকংয়ের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন ঠেকাতে তারা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। কয়েক দিন পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।