‘শান্তি পর্ষদ’-এর সনদে স্বাক্ষরের পর তা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
‘শান্তি পর্ষদ’-এর সনদে স্বাক্ষরের পর তা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

‘শান্তি পর্ষদে’ কানাডাকে জানানো আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিলেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে কানাডাকে জানানো আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার দাভোসে দেওয়া বক্তৃতায় শক্তিশালী দেশগুলোর সমালোচনা করে কার্নি বলেছিলেন, তারা অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ‘অস্ত্র’ এবং শুল্ককে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

কানাডার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘এ চিঠির মধ্য দিয়ে আমি জানাচ্ছি, কানাডার কাছ থেকে শান্তি পর্ষদের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এটি কোনো সময় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নেতাদের পর্ষদে পরিণত হবে।’

শান্তি পর্ষদের আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের বিষয়ে কার্নির দপ্তর কিংবা হোয়াইট হাউস রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।

গত সপ্তাহে কার্নির দপ্তর জানিয়েছিল, তারা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং তা গ্রহণ করবে।

মঙ্গলবার দাভোসে কার্নির বক্তৃতার পর শ্রোতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। বক্তৃতায় তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, নিয়মনীতিভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে গেছে। আর সেটি যেন তাঁরা মেনে নেন।

কার্নি আরও বলেছিলেন, ‘মধ্যপন্থী শক্তিগুলো’ একসঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের ভুক্তভোগী হওয়া থেকে কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পারে, সেটি কানাডা দেখাতে পারে। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করেছে কানাডা।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে আছে’। অন্যদিকে গত বুধবার দাভোসে বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদারতার জন্য কার্নির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। ট্রাম্প নাম ধরে বলেছিলেন, ‘মার্ক, পরেরবার যখন তুমি কোনো বক্তৃতা দেবে, তখন এটা মনে রেখো।’

গতকাল দাভোসে শান্তি পর্ষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পর কানাডার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেন তিনি। ট্রাম্প এই পর্ষদের চেয়ারম্যান।

প্রাথমিকভাবে গাজা যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শান্তি পর্ষদ গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে পরে এর উদ্দেশ্য আরও বিস্তৃত করা হয়। বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সংঘাত থামানোই এ পর্ষদের উদ্দেশ্য। এতে সদস্য হওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে এর আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী সদস্য হতে ১০০ কোটি ডলার করে দিতে হবে।

আলোচিত এ শান্তি পর্ষদ সম্পর্কে ট্রাম্প দাভোসে বলেছিলেন, ‘বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হলে আমরা যা চাই, তাই করতে পারব। বিভিন্ন পদক্ষেপ জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে নেব।’

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল জাতিসংঘের মুখপাত্র রোলান্ডো গোমেজ বলেন, এ পর্ষদের সঙ্গে জাতিসংঘ যোগাযোগ শুধু গাজার প্রেক্ষাপটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, মরক্কো, পাকিস্তান, তুরস্কসহ আরও কিছু দেশ এখন পর্যন্ত শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালিসহ কিছু মার্কিন মিত্রদেশ জানিয়েছে, তারা এখনই এই পর্ষদে যোগ দিচ্ছে না।