
ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, ৪০ দিন যুদ্ধের পর যারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সরাসরি বৈঠকে বসেছিল।
আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘তেহরান আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব’ রেখে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ‘এখন দেখা যাক, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না,’ বলেন ভ্যান্স।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন শেষে ভ্যান্স সদলবল ইসলামাবাদ ছাড়েন।
সংক্ষিপ্ত ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আলোচনা আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, একটি চুক্তিতে উপনীত হতে না পারার দায় পাকিস্তানের নয়, বরং পাকিস্তান দারুণ কাজ করেছে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সত্যিই সহায়তার চেষ্টা করেছে।
দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক লক্ষ্যসহ আরও বেশ কয়েকটি মূল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হতে পারেনি জানিয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে এবং কোন কোন বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, তা ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে এবং তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ভ্যান্স আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার চেয়েছিল। সেটা হলো—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইবে না এবং এমন কোনো প্রযুক্তি অর্জন করতে চাইবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম করে তুলবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স খুব বেশি প্রশ্ন নেননি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইরানের জব্দ করা সম্পদের বিষয়টি আলোচনায় উঠেছিল কি না? জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করেছি এবং এর বাইরের বেশ কিছু বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবু এই আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।’
ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সদিচ্ছা নিয়েই এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে বলেছিলেন, “আপনাদের এখানে সদিচ্ছা নিয়ে আসতে হবে এবং চুক্তি করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে”। আমরা সেটাই করেছি। ওয়াশিংটন খুবই নমনীয় এবং খুবই সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেছে।’
আলোচনা চলাকালে মার্কিন প্রতিনিধিদল নিয়মিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল বলেও জানান ভ্যান্স।
একটি চুক্তিতে উপনীত হতে না পারা ইরানের জন্য আরও খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে বলে হুঁশিয়ার করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তি না হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যতটা খারাপ খবর, ইরানের জন্য তার থেকে অনেক বেশি খারাপ খবর।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, সেই সঙ্গে একটি শান্তি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তও হয়।
গতকাল শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ওই আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসলামাবাদে এই বৈঠক ছিল ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।