১৯৮২ সাল নাগাদ জেফরি এপস্টেইন তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন
১৯৮২ সাল নাগাদ জেফরি এপস্টেইন তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন

কে এই কুখ্যাত এপস্টেইন, স্কুলশিক্ষক থেকে কীভাবে ধনকুবের ও ক্ষমতাশালীদের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠলেন

জেফরি এপস্টেইন ২০১১ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছিলেন, ‘আমি যৌন নিপীড়ক নই, আমি শুধু অপরাধী। একজন হত্যাকারী ও ব্যাগেল (পাউরুটি–জাতীয় একধরনের খাবার) চোরের মধ্যে যেমন পার্থক্য, এটা তেমনই ব্যাপার।’

যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এপস্টেইন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মারা যান। যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে নারীদের পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলায় বিচারকাজ চলা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর এক দশকেরও বেশি সময় আগে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক এক মেয়েকে যৌনকর্মে যুক্ত হতে প্রস্তাব দেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এ জন্য তাঁকে যৌন নিপীড়ক হিসেবে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে যৌনবৃত্তির এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন।

২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ বিল অনুমোদন করা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিলে স্বাক্ষর করেন, যা বিচার বিভাগকে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে করা সব অপরাধমূলক তদন্তের ফাইল প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়।

আইনে বলা হয়েছে, এসব ফাইল ‘অনুসন্ধান এবং ডাউনলোড উপযোগী ফরম্যাটে’ প্রকাশ করতে হবে।

এরপর এখন পর্যন্ত লাখ লাখ পৃষ্ঠা নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী এপস্টেইনের জীবন সম্পর্কে ধারণা দেয়।

গত ৩ ডিসেম্বর হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা জেফরি এপস্টেইনের ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের বাড়ির ছবি প্রকাশ করে, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ছবিগুলোতে কয়েকটি শয়নকক্ষ দেখা গেছে। সেখানে এমন একটি কক্ষ আছে, যেটির দেয়ালে কিছু মুখোশ ঝোলানো।

জেফরি এপস্টেইন

ট্রাম্পের চোখে তিনি ‘দারুণ মানুষ’

নিউইয়র্কেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা এপস্টেইন ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শহরের প্রাইভেট ডাল্টন স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। তিনি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিত নিয়ে পড়েছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত স্নাতক শেষ করতে পারেননি।

এক শিক্ষার্থীর বাবা এপস্টেইনের প্রতি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগ ব্যাংক বিয়ার স্টিয়ার্নসের এক জ্যেষ্ঠ অংশীদারের সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এপস্টেইন চার বছরের মধ্যে সেখানকার অংশীদার হয়ে যান।

১৯৮২ সাল নাগাদ এপস্টেইন তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

এই কোম্পানিটি এমন সব গ্রাহকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করত, যার মূল্য ১০০ কোটি ডলারের (৮০ কোটি পাউন্ড) বেশি। কোম্পানিটি দ্রুতই সাফল্য পায়। এপস্টেইনও তখন তাঁর ভাগ্য গড়তে শুরু করেন।

দ্রুতই এপস্টেইন ফ্লোরিডায় একটি প্রাসাদ, নিউ মেক্সিকোতে একটি খামার কিনে নেন এবং তারকা, শিল্পী ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সামাজিকভাবে মিশতে থাকেন। কথিত আছে, নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত বাড়িটির মালিকও তিনি।

২০০২ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এপস্টেইন সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি জেফকে ১৫ বছর ধরে চিনি। তিনি দারুণ মানুষ। তাঁর সঙ্গে থাকাটা খুবই মজার। বলা হয়, তিনি সুন্দরী নারীদের পছন্দ করেন, যেমনটা আমি করি। এ ক্ষেত্রে কম বয়সীদের পাল্লাটাই বেশি ভারী।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নিঃসন্দেহে জেফরি তাঁর সামাজিক জীবন উপভোগ করেন।’

অবশ্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে অর্থাৎ এপস্টেইন প্রথমবার গ্রেপ্তার হওয়ার অনেক বছর আগেই দুজনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এপস্টেইনের সঙ্গে মিলে কোনো অপরাধ করেননি বলে বারবারই দাবি করে আসছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসও বলেছে, ট্রাম্প কয়েক দশক আগে এপস্টেইনকে তাঁর ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন। কারণ, তিনি (এপস্টেইন) তাঁর নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছিলেন।

ট্রাম্পের পাশাপাশি আরও কয়েকজন অভিজাত ব্যক্তির সঙ্গেও এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। তবে, তার মানে এই নয় যে ওই সব ব্যক্তি অপরাধে জড়িত ছিলেন।

২০০২ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং অভিনেতা কেভিন স্পেসি ও ক্রিস টাকারকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে আফ্রিকায় নিয়ে যান এপস্টেইন। ২০০৩ সালে তিনি তৎকালীন চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েইনস্টিনের সঙ্গে মিলে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের মালিকানা কিনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একই বছর তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ কোটি ডলার অনুদান দেন।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গেও এপস্টেইনের বন্ধুত্ব ছিল। পরে অবশ্য ম্যান্ডেলসন এ বন্ধুত্ব নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। একে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে সরে যেতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, গতকাল রোববার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি থেকেও সরে যেতে হয়েছে তাঁকে।

তবে এপস্টেইন নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রাখার চেষ্টা করতেন। শোনা যায়, তিনি সামাজিক অনুষ্ঠান বা রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ এড়িয়ে চলতেন।

মিস সুইডেন বিজয়ী ইভা অ্যান্ডারসন ডুবিন ও গিলেন ম্যাক্সওয়েলের মতো নারীদের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে কখনো বিয়ে করেননি। গিলেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন প্রকাশক রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মেয়ে।

২০০৩ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত এক লেখায় টিফানি অ্যান্ড কোম্পানির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রোসা মনকটন বলেন, এপস্টেইন ছিলেন ‘খুবই রহস্যময়’।

মনকটন বলেন, ‘আপনি হয়তো ভাবছেন যে তাঁর সম্পর্কে সব জেনে ফেলেছেন। কিন্তু একটু গভীরে গেলে আরও নতুন কিছু বেরিয়ে আসে, যা অনেকটা পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানোর মতো। ওপর থেকে যা দেখা যায়, ভেতরটা তেমন নয়।’

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর (বাঁয়ে) ও কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন (ডানে)

দণ্ডাদেশ ও সমঝোতা

২০০৫ সালে ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর মা–বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, এপস্টেইন তাঁদের মেয়েকে তাঁর পাম বিচের বাড়িতে যৌন নিপীড়ন করেছে। পুলিশের তল্লাশিতে বাড়িজুড়ে মেয়েদের ছবি পাওয়া যায়।

মায়ামি হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, আরও অনেক বছর আগে থেকেই মেয়েদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন এপস্টেইন।

পাম বিচ পুলিশের প্রধান মাইকেল রাইটার বলেন, ‘এটা সে বলেছে, ও বলেছে—এমন কোনো বিষয় নয়। এটা ৫০ জন নারী আর একজন পুরুষের বক্তব্যের বিষয়। আর এখানে সব নারী প্রায় একই কথা বলেছে।’

২০০৭ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক লেখায় কলাম লেখক মাইকেল উলফ বলেন, ‘মেয়েদের ব্যাপারে এপস্টেইন কখনো রাখঢাক করেননি।’

উলফ আরও বলেন, একসময় এপস্টেইন তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি কী আর বলব, আমি অল্পবয়সী মেয়েদের পছন্দ করি।’ তখন উলফ বলেছিলেন, ‘হয়তো বলা উচিত, আমি তরুণী নারীদের পছন্দ করি।’

তবে ২০০৮ সালে কৌঁসুলিরা এপস্টেইনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি করেন। এর ফলে তিনি ফেডারেল মামলার হাত থেকে রেহাই পান। ওই মামলায় তাঁর আজীবন কারাদণ্ড হতে পারত। তবে তা না করে তাঁকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ সময় এপস্টেইনকে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা, সপ্তাহে ছয় দিন অফিসে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। ১৩ মাস পর তাঁকে প্রবেশনে মুক্তি দেওয়া হয়।

মায়ামি হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেডারেল কৌঁসুলি অ্যালেক্সান্ডার অ্যাকোস্টা এমন একটি চুক্তি করেছিলেন যেন এপস্টেইনের অপরাধের প্রকৃত মাত্রা চাপা পড়ে যায় এবং আরও ভুক্তভোগী বা প্রভাবশালী জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে এফবিআইয়ের তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। পত্রিকাটি একে ‘শতাব্দীর চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেছিল।

এই কেলেঙ্কারির জেরে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে অ্যাকোস্টা পদত্যাগ করেন। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন, এই চুক্তি হওয়ার কারণে অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও এপস্টেইনের কারাদণ্ড হয়েছিল।

২০০৮ সাল থেকে নিউইয়র্কের যৌন নিপীড়কদের তালিকায় লেভেল থ্রি হিসেবে এপস্টেইনের নাম ছিল। এ লেভেল থ্রি তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের আবারও অপরাধে জড়িত হওয়ার উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও এপস্টেইন তাঁর বাড়িঘর ও সম্পদ নিজের দখলেই রেখে দেন।

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের তৃতীয় সন্তান অ্যান্ড্রুকে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এপস্টেইনের সঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক বিতর্ক হয়।

২০১৯ সালের নভেম্বরে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের ইতি টানতে ২০১০ সালে তিনি নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, সেখানে এপস্টেইনের বাড়িতে থাকাটা তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কজনিত বিতর্কের জেরে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবার ২০২৫ সালে অ্যান্ড্রুর ‘যুবরাজ’ উপাধি বাতিল করে দেয়।

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নারীদের একজন ভার্জিনিয়া রবার্টস (পরে তিনি ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামে পরিচিত হন)। জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ১৭ বছর বয়সে তাঁকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল।

অ্যান্ড্রু এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তাঁর কোনো যৌন সম্পর্ক ছিল না। লন্ডনে দুজনের একসঙ্গে তোলা ছবির কথাও মনে নেই বলে দাবি করেন অ্যান্ড্রু।

তবে ২০২২ সালে লাখ লাখ ডলার অর্থ দিয়ে জিউফ্রের সঙ্গে মামলা মিটমাট করেন অ্যান্ড্রু। মামলায় জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি অ্যান্ড্রুর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।

এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের ৬ জুলাই নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করা হয়। প্যারিস থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে ফেরার পর তিনি গ্রেপ্তার হন।

এপস্টেইন বরাবরই দাবি করেছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

আদালত এপস্টেইনকে জামিন না দেওয়ায় তাঁকে নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারাগারে রাখা হয়েছিল। জুলাই মাসে তাঁকে সাময়িকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শোনা যায়, তিনি ঘাড়ে আঘাত পেয়েছিলেন। তবে কারাগারের কর্মকর্তা বা তাঁর আইনজীবী এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

২০১৯ সালের ৩১ জুলাই তাঁকে শেষবারের মতো আদালতে দেখা গিয়েছিল। সেদিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তাঁকে এক বছর কারাগারে থাকতে হবে। অন্তত ২০২০ সালের গ্রীষ্মের আগে বিচার কাজ শুরু হবে না। কৌঁসুলিরা তখন বলেছিলেন, জনস্বার্থে দ্রুত বিচার করা প্রয়োজন। তবে এপস্টেইন আর সে বিচারের মুখোমুখি হননি। তাঁর আগেই তিনি মারা যান।

সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে জেফরি এপস্টেইন

গিলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা

এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তাঁর সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েল খবরের শিরোনামে চলে আসেন।

২০২০ সালের জুলাইয়ে নিউ হ্যাম্পশায়ারে গিলেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, কম বয়সীদের যৌনকর্মে বাধ্য করতে তিনি এপস্টেইনকে সহযোগিতা করতেন। তিনি প্রলোভন দেখিয়ে কম বয়সী মেয়েদের যৌনকর্মের জন্য প্রস্তুত করে তুলতেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক নগরের এক জুরি গিলেনকে ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ছিল–একজন কিশোরীকে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার।

গিলেনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থাৎ ৬০ বছর বয়সী গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটাতে হবে।

অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করা গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাঁর বহু ধনী ও ক্ষমতাধর বন্ধুদের সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিল ক্লিনটন এবং অ্যান্ড্রুও আছেন।

ঘনিষ্ঠজনেরা বলেছেন, গিলেন ও এপস্টেইনের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক কয়েক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি। তবে এরপরও তিনি অনেক দিন এপস্টেইনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেছেন।

আদালতের নথিতে দেখা যায়, পাম বিচে এপস্টেইনের প্রাসাদের সাবেক কর্মচারীরা গিলেন ম্যাক্সওয়েলকে ঘরের ব্যবস্থাপক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মচারীদের তদারক করতেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা করতেন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের দায়িত্বে থাকতেন।

২০০৩ সালে ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত এক প্রোফাইলে এপস্টেইন বলেছিলেন, গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাঁর বেতনভুক্ত কর্মী ছিলেন না, বরং সেরা বন্ধু ছিলেন।

তবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর গিলেন কিছুটা অনুতাপ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা হওয়াটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখজনক ঘটনা।’

গিলেন ম্যাক্সওয়েলের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তাঁরা আবেদন করেন, তাঁদের মক্কেলকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা উচিত হয়নি। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন।