ই. জিন ক্যারল
ই. জিন ক্যারল

যৌন নিপীড়নের দায়ে অবশেষে ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে কলাম লেখক ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির ঘটনায় তিন বছর আগে দোষী সাব্যস্ত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সে আদেশের তিন বছর পর অবশেষে ট্রাম্প ক্ষতিপূরণ বাবদ ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছেন। ক্যারলের আইনজীবীরা খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান বলেন, ‘আজ আমরা এটা জানাতে পেরে আনন্দ বোধ করছি যে জুরির রায় অনুযায়ী তিনি (ক্যারল) নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন।’

ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব করতে চাইছিলেন, যাতে মামলাটিতে তাঁর আপিল শুনানি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারেন। তবে গত সপ্তাহে মামলার বিচারক তাঁকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন।

ট্রাম্পের আইনজীবী দলের একজন প্রতিনিধি ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ক্যারলের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি মোট ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছেন। এর মধ্যে জুরির নির্ধারণ করা ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আপিল চলাকালে জমা হওয়া সুদ অন্তর্ভুক্ত আছে।

বর্তমানে ক্যারলের বয়স ৮২ বছর। তিনি একসময় একটি সাময়িকীর কলাম লেখক ছিলেন। ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটানের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেন।

২০২২ সালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে পোস্ট দেন। ক্যারলের অভিযোগ, ওই পোস্টের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তাঁর মানহানি করেছেন।

২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি সর্বসম্মতভাবে ক্যারলের পক্ষে রায় দিয়ে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রায় ঘোষণার কিছুদিন পর ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতের নিয়ন্ত্রিত একটি হিসাবে জমা রাখেন। আপিলপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে অর্থ সেখানেই রাখা হয়।

ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিচারকের ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশের সমালোচনা করে মামলাটিকে ‘প্রতারণা’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেন। তাঁদের দাবি, ডেমোক্র্যাটরা এই মামলার পেছনে অর্থায়ন করেছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন, দেওয়ানি মামলার বিচারক লুইস ক্যাপলান এমন কিছু প্রমাণ গ্রহণ করেছিলেন, যা জুরিদের তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছিল।

গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালত জুরির রায় বহাল রাখেন। আদালত বলেছেন, বিচারক ক্যাপলান এমন কোনো আইনি ভুল করেননি, যার কারণে নতুন করে বিচার করার প্রয়োজন হতে পারে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এর মধ্য দিয়ে ক্যারলকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের পথ পরিষ্কার হয়। সে সময় রায়কে স্বাগত জানিয়ে ক্যারল তাঁর সাবস্ট্যাক ব্লগে লিখেছিলেন, ‘আমরা জিতেছি!’

ক্যারল আরও লিখেছেন, ‘এই বিজয় বিশ্বের প্রতিটি নারীর জন্য।’

এদিকে ২০২৪ সালে আরেকটি মানহানির ঘটনায় দায়ী করে ক্যারলকে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে রায় জুরি দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধেও ট্রাম্প আপিল করেছেন। তবে গত বছর ফেডারেল বিচারকদের একটি বেঞ্চ সেই আপিলও খারিজ করে দেন।