যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে একটি বাড়ির বাইরে এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে চারজন নিহত হয়েছেন। পরে পুলিশের গুলিতে ৩২ বছর বয়সী সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হন।
টাকোমা শহরের উত্তর–পশ্চিমের ‘কি পেনিনসুলা’ এলাকার এক বাড়ির সামনে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে এ ঘটনা ঘটে।
পিয়ার্স কাউন্টির শেরিফ অফিসে এক ব্যক্তি একটি ‘নো–কন্ট্যাক্ট’ আদেশ (আদালতের নির্দেশ; যা কোনো ব্যক্তিকে অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে বা নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে যেতে বাধা দেয়) লঙ্ঘন করছেন সন্দেহে অভিযোগ আসার পর সকাল ৮টা ৪১ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।
এর আগে পুলিশ কর্মকর্তারা ‘নো–কন্ট্যাক্ট’ আদেশের একটি অনুলিপি হাতে পান। কিন্তু তাঁরা দেখেন, সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। কারণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়নি।
পুলিশ আদেশটি ব্যক্তিগতভাবে সন্দেহভাজনের কাছে পৌঁছে দিতে যায়। কিন্তু সে সময় ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই ব্যক্তি ছুরিকাঘাত শুরু করেন। তিন মিনিট পর পুলিশ হামলাকারীকে নিবৃত্ত করতে গুলি ছোড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই সন্দেহভাজন হামলাকারী নিহত হন।
এদিকে ছুরিকাঘাতে আহত তিনজন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। চতুর্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু তিনিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এপির খবর অনুযায়ী, যে বাড়ির সামনে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে সেটি একজন নারীর। তিনি তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এক বছরের ‘নো–কন্ট্যাক্ট’ বা সুরক্ষা আদেশ চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
অভিযোগপত্রে ওই নারী বলেছিলেন, তাঁর ছেলে তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে। ছেলেটি মাদকাসক্ত ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই নারী অভিযোগপত্রে লিখেছিলেন, ‘সে আমাকে নির্যাতন করেছে, ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের ক্ষতি করেছে এবং আমার পোষা বিড়ালকে আঘাত করেছে।’
সন্দেহভাজন হামলাকারী ও হামলায় নিহত ব্যক্তিদের কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।