যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে রেনি নিকোল গুডকে হত্যা ও অভিবাসন কড়াকড়ির বিরুদ্ধে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেন হাজারো মানুষ। ১০ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে রেনি নিকোল গুডকে হত্যা ও অভিবাসন কড়াকড়ির বিরুদ্ধে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেন হাজারো মানুষ। ১০ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহতের ঘটনায় শহরটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার কনকনে শীত উপেক্ষা করে রাজপথে নামেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই/আইস) এক কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নিহত হন। তিনি মিনিয়াপোলিসে আইসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতাদের এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে চড়া উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গতকাল মেক্সিকোর ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নৃত্যশিল্পীদের একটি দলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি রেনি নিকোল গুডকে যে স্থানে গুলি করা হয়েছিল, সেখানে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘আইস বিলুপ্ত করো’ এবং ‘বিচার নেই, শান্তি নেই—আমাদের সড়ক থেকে আইস হঠাও’ বলে স্লোগান দেন।

রেনি নিকোল গুড নিহত হওয়া এবং অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে সাম্প্রতিক আরেকটি গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো ‘আইস আউট ফর গুড’ ব্যানারে দেশজুড়ে এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে আটককেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদের আগুন।

ফিলাডেলফিয়াতেও হয়েছে বড় বিক্ষোভ। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ‘আইসকে যেতে হবে’, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই নেই’—এমন নানা স্লোগান দেন। ম্যানহাটানেও কয়েক শ মানুষের বিক্ষোভে আইসবিরোধী স্লোগান হয়।

মিনিয়াপোলিসের ৩০ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এলিসন মন্টগোমারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে—এখন শুধু এ আশাটুকুই করতে পারি।’

মিনেসোটা প্রশাসন বলেছে, রেনি গুডের ওপর ‘অন্যায়ভাবে’ গুলি চালানো হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা বলছেন, পথচারীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রেনি গুডের গাড়িটি এজেন্টের কাছ থেকে উল্টো দিকে ঘুরে যাওয়ার সময় ওই কর্মকর্তা গুলি চালান। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বলছে, ওই এজেন্ট আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালিয়েছেন।

এদিকে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মিনিয়াপোলিস শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানকার মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেছেন, আন্দোলন মূলত শান্তিপূর্ণ হলেও সরকারি সম্পত্তি নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত শুক্রবার রাতে কিছু হোটেলের জানালা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রেনি নিকোলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে মিনেসোটার তিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য—অ্যাঞ্জি ক্রেগ, কেলি মরিসন ও ইলহান ওমর মিনেসোটার সেন্ট পলের একটি আইস দপ্তর পরিদর্শনে গেলে তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছেন তাঁরা।

অ্যাঞ্জি ক্রেগ বলেন, ‘আইস এবং ডিএইচএস ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করছে। আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

রেনি গুডের মৃত্যু এবং অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে সাম্প্রতিক আরেকটি গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো ‘আইস আউট ফর গুড’ ব্যানারে দেশজুড়ে এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে আটককেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদের আগুন।