
পেন্টাগনে গতকাল বুধবার সকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা করেন, গত পাঁচ সপ্তাহে ইরান ‘অপমানিত ও মনোবলহীন’ হয়ে পড়েছে। ইরানের পারমাণবিক মজুত যুক্তরাষ্ট্র দখলে নেবে—হয় আলোচনার মাধ্যমে, নয়তো শক্তি প্রয়োগ করে।
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নরমভাষী জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করবে এবং নির্দেশ পাওয়ামাত্রই আবার অভিযান শুরু করতে তারা প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবার যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে, যদি আলোচনা সফল না হয়, তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা থাকলেও রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য তা অনেক বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
আর আগামীকাল শুক্রবার ইসলামাবাদে যখন দুই দেশের বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে, তখন ইরানও খুব ভালোভাবে জানে, ট্রাম্প এখন রাজনৈতিক চাপে আছেন এবং তিনি সহজে যুদ্ধে ফিরতে চাইবেন না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সত্যিই শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও কমতে পারে। ইতিমধ্যে দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে নেমেছে। তেলের দাম কমলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য জ্বালানির দামও কমবে। যদিও দাম যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে বলে কেউই আশা করছেন না। এ খবরে প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সত্যিই শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও কমতে পারে। ইতিমধ্যে দাম প্রায় ১৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে নেমেছে। তেলের দাম কমলে স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য জ্বালানির দামও কমবে। যদিও দাম যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরবে বলে কেউই আশা করছেন না। এ খবরে প্রধান শেয়ারবাজারগুলোর সূচক ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তৎক্ষণাৎ কী লাভ হলো, সেটাই ট্রাম্পের কাছে বড় কথা। তেলের দাম কমছে আর শেয়ারবাজার চাঙা হচ্ছে, এটা দেখেই তিনি খুশি। তিনি জানেন, ২১ এপ্রিলের মধ্যে কোনো পাকাপাকি সমাধান না–ও হতে পারে। তবু তিনি নতুন করে যুদ্ধে নামতে ভয় পাচ্ছেন।
কারণ, সামনেই নির্বাচন এবং চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বড় বৈঠক আছে। এ সময়ে যুদ্ধ শুরু করা তাঁর জন্য অনেক বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে যাবে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইরান বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন এমন এক অবস্থানে আছে, কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলার অবস্থায় নেই। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যখন–তখন হামলা করতে পারে ঠিকই। কিন্তু ইরানও দেখিয়ে দিয়েছে, তারা জ্বালানি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দুশ্চিন্তার বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন। তাই চাইলেই তিনি হুট করে যুদ্ধে ফিরতে পারবেন না।
আগে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, সেই ক্ষতি আর ফেরানো যাবে না। এখন যদি ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ শুরু করতে চান, তবে আগের এই ভুল ও বিপদগুলোর কথা ভেবে তাঁকে শতবার চিন্তা করতে হবে। তবে এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নতুন একটি বিপদের বা চ্যালেঞ্জের কথা সামনে এনেছেন, যা ট্রাম্পের জন্য নতুন এক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
ইরান নিয়ে শুরুতেই ট্রাম্প কিছু বড় ভুল করে বসেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার আগে তিনি নিজের বন্ধুরাষ্ট্র বা মিত্রদের সঙ্গে কোনো আলাপই করেননি। ফলে যখন যুদ্ধ শুরু হলো, তখন তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, কেউ তার পাশে নেই।
এমনকি ট্রাম্প ভেবেছিলেন, তাঁর উসকানিতে ইরানের সাধারণ মানুষ তাদের সরকার ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। তাঁর সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
হামলার আগে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুদেশগুলোকেও কিছু জানাননি। ফলে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হলে তারা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে। তারা দেখে, তাদের তেলখনি ও পানি শোধনাগারগুলো রক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই।
সাবেক ও বর্তমান সামরিক কমান্ডাররা বলছেন, এমন একটি অভিযান চালাতে অন্তত কয়েক শ বিশেষ সেনার প্রয়োজন হবে এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
দেশের ভেতরেও ট্রাম্প কাউকে গোনায় ধরেননি। এমনকি নিজের দলের কট্টর সমর্থকদের মধ্যেও এ নিয়ে বিভেদ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের নেতারাও খেপে গিয়েছিলেন। কারণ, প্রতিদিন যুদ্ধের পেছনে ১০০ কোটি ডলার খরচ হলেও প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে আসেননি।
আগে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, সেই ক্ষতি আর ফেরানো যাবে না। এখন যদি ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ শুরু করতে চান, তবে আগের এই ভুল ও বিপদগুলোর কথা ভেবে তাঁকে শতবার চিন্তা করতে হবে। তবে এর মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নতুন একটি বিপদের বা চ্যালেঞ্জের কথা সামনে এনেছেন, যা ট্রাম্পের জন্য নতুন এক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
গতকাল পেন্টাগনে পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হতে হবে, ইরানকে তাদের ভূগর্ভস্থ ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রে মজুত ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রায় যথেষ্ট।
হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘তারা হয় এই ইউরেনিয়াম আমাদের হাতে তুলে দেবে, নয়তো আমরা গিয়ে তা নিয়ে আসব।’
তবে সাবেক ও বর্তমান সামরিক কমান্ডাররা বলছেন, এমন একটি অভিযান চালাতে অন্তত কয়েক শ বিশেষ সেনার প্রয়োজন হবে এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
এই ইউরেনিয়াম কীভাবে উদ্ধার করা হবে, এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ কেবল বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা প্রেসিডেন্ট নিজেই সমাধান করবেন।’