মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রতিরক্ষায় বেশি খরচ করা দেশগুলোকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার আদেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ক্রেতাদের তালিকাকে নতুন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর আওতায় যেসব দেশ প্রতিরক্ষা খাতে অনেক খরচ করে, সেগুলোকে তালিকায় অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউস এসব তথ্য দিয়েছে।

‘আমেরিকা ফার্স্ট আর্মস ট্রান্সফার স্ট্র্যাটেজি’ নামের এ নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে এমন দেশগুলোর কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রিকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে, যারা নিজেদের সুরক্ষায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে এবং আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূকৌশলগত অবস্থান দখল করে আছে।

এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত মিত্রদেশগুলোর কাছে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের গতি দ্রুত করতে চান বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে বিক্রি বাড়ানোর মধ্য দিয়ে দেশের ভেতরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চান তিনি। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

২০২৫ সালে ন্যাটো দেশগুলোর নেতারা তাঁদের দেশের মোট আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করতে সম্মত হন। তাঁরা আরও অঙ্গীকার করেন, ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশ হামলার শিকার হলে অন্য দেশগুলো তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে।

গতকাল ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটির সঙ্গে এ–সংক্রান্ত একটি তথ্যপত্র প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। এতে বলা হয়, ভবিষ্যতের অস্ত্র বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ জন্য বিদেশে অস্ত্র বিক্রি থেকে হওয়া আয় ও বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে উৎপাদন ও সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

নতুন কৌশলের আওতায় কোন কোন অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পাবে, তার একটি তালিকা তৈরি করবেন মার্কিন প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রীরা। কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে কোন কোন দেশে অস্ত্র বিক্রির সুযোগ আছে, তা-ও চিহ্নিত করবেন তাঁরা।

দশকের পর দশক ধরে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ নীতিতে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু বিশেষ কিছু জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলে এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশকে অগ্রাধিকার দিলে তবেই শুধু সেই নিয়ম বদলানো যেত।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অস্ত্র কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা আরও কড়াভাবে নজরদারি এবং তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের নিয়ম সহজ ও স্বচ্ছ করা।

হোয়াইট হাউস বলছে, আগের ‘পার্টনার ফার্স্ট’ বা ‘সহযোগী দেশকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির কারণে উৎপাদনে জট তৈরি হয়েছিল এবং সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছিল। কারণ, অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে ক্রয়াদেশের সামঞ্জস্য থাকত না। নতুন নীতির মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে, মার্কিন অস্ত্র রপ্তানি যেন একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।