
চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের পরিকল্পনা নিয়ে মস্কো ও কিয়েভে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প নিজেই তাঁর এই দুই দূতকে মস্কো ও কিয়েভে পাঠানোর কথা জানান।
গত বছর ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভে কুশনার ও উইটকফের এটি হবে প্রথম সফর। এই দফার নির্বাচনী প্রচারে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
উভয় মার্কিন দূতই আগে মস্কো সফর করেছেন। এ কারণে আলোচনায় তাঁরা রাশিয়ার পক্ষ নিয়েছেন—এমন অভিযোগ ওঠে।
কুশনার ও উইটকফ সঙ্গে করে যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন বলে সাংবাদিকদের জানান ট্রাম্প। পরিকল্পনাটিতে ইউক্রেনকে কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার কথা আছে কি না, সে সম্পর্কে ট্রাম্প কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেন, ‘শান্তির জন্য আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। ট্রাম্প এ যুদ্ধকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার ‘ব্যক্তিত্বগত সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠিয়েছি। দুজনই দারুণ দক্ষ আলোচক। তাঁরা খুব ভালো কাজ করেছেন। আমরা তাঁদের পাঠিয়েছি, কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায় কি না, তা দেখতে। আর আমাদের তা করতে পারার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। ট্রাম্প এ যুদ্ধকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার ‘ব্যক্তিত্বগত সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
জেলেনস্কি এর আগে বলেছেন, মার্কিন দূতদের মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পালনের প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন।
নিজের নিয়মিত সন্ধ্যার ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের দিক থেকে আকাশপথে কোনো হামলা চালানো হবে না। আর রাশিয়াকেও একইভাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ তাদের দিক থেকেও আকাশপথে কোনো হামলা চালানো যাবে না। আলোচনা চালানোর জন্য যতক্ষণ সময় প্রয়োজন, ততক্ষণ এই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে।’
ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, দুই দূত আগামীকাল রোববার কিয়েভ সফর করবেন।
এ বিষয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুশনার ও উইটকফের শুক্রবার (গতকাল) রওনা হওয়ার কথা। আজ শনিবার ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করবেন। এরপর রোববার কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁরা সাক্ষাৎ করবেন।