
নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর টানা ১৩ দিন ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে আপাতত আলোচনার কথা বলে দেশটি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রেখেছে। এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরবর্তী হামলা চালানোর অনুমতি দেননি।
গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, কূটনৈতিক পথে উত্তেজনা নিরসনের উপায় খুঁজে পেতে তাঁর দুয়ার খোলা আছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় আবারও হামলা শুরু করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে চান ট্রাম্প। এ জন্যই তিনি ইরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন।
এ বিষয়ে অবগত আছেন—এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবারের জন্য পরিকল্পিত বড় সামরিক অভিযানটি স্থগিত রাখা হয়েছে। কারণ, কর্মকর্তারা আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা প্যাট্রিয়টসহ (ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র) অন্যান্য গোলাবারুদের ক্রমহ্রাসমান মজুতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তাঁরা আরও বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং যেকোনো সময় ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
ওই কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে।
তবে প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মনে করেন, গোলাবারুদের ঘাটতিতে বড় কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হলে দেশটির বিমান হামলা পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাতিল করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার পর গত শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘একটি সামরিক পথ আছে, যেভাবে আমরা এগোচ্ছি, সেভাবেই চালিয়ে যেতে পারি। এমনকি আমরা হামলার মাত্রা আরও বাড়াতে পারি এবং এতে তাদের (ইরানের) যা কিছু আছে, সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অথবা আরও বিচক্ষণ একটি কৌশল আছে—সেটি হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। আর তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়।’