মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানকে হুমকি দিয়েই চলছে যুক্তরাষ্ট্র, কী পদক্ষেপের কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

হোয়াইট হাউস বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোসহ ‘অনেক বিকল্প’ তারা বিবেচনায় রাখছে।

ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভের জেরে দেশটির সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে কূটনীতিই সব সময় ‘প্রথম পছন্দ’। তবে বিকল্প হিসেবে সামরিক হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় সব ধরনের বিকল্প হাতে রাখতে পারদর্শী। কমান্ডার ইন চিফের (ট্রাম্প) সামনে থাকা অনেক বিকল্পের মধ্যে একটি হতে পারে বিমান হামলা।

গত কয়েক দিনে ইরানে নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে কয়েক শ মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, দাঙ্গায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য নিহত হয়েছেন।

বিরোধী কর্মীদের দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শত শত বিক্ষোভকারী রয়েছেন।

তবে দেশটিতে ইন্টারনেট–সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় আল-জাজিরা স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

এর আগে গত বছরের জুনে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট

যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান যদি না চলে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানোর হুমকি ট্রাম্প আগেই দিয়েছেন।

দীর্ঘদিনের এই শত্রুদেশটির বিরুদ্ধে আরও সামরিক হামলা চালানোর অজুহাত হিসেবে ট্রাম্প এখন ইরান সরকারের বিক্ষোভ দমনের বিষয়টিকে ব্যবহার করছেন ট্রাম্প।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ট্রাম্প প্রায়ই তাঁর নির্দেশ অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতভেদ রয়েছে।

বেনামি মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য ইরানে হামলার পরিবর্তে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বা তুলনামূলকভাবে কম কঠোর বিকল্প বিবেচনার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।

গত রোববার ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইরান। তেহরান আলোচনা, সমঝোতা করতে চেয়েছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ইরান সরকার প্রকাশ্যে যা বলছে, আর গোপনে ট্রাম্প প্রশাসনকে যে বার্তা দিচ্ছে, তার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেখিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি সামরিক পদক্ষেপ নিতে ভয় পান না। আর বিষয়টি ইরানের চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না।

গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে নতুন একটি ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালানো দেশগুলোর ওপর অবিলম্বে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প তাঁর এ সিদ্ধান্তকে ‘চূড়ান্ত’ বলে অভিহিত করেন। তবে ঠিক কোন কোন দেশের ওপর এই শুল্ক কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।