মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর পদে টেলিভিশন বিতর্কে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইয়ের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল আল-সাইয়েদ ও হ্যালি স্টিভেন্স
মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর পদে টেলিভিশন বিতর্কে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইয়ের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল আল-সাইয়েদ ও হ্যালি স্টিভেন্স

আল–জাজিরার এক্সপ্লেইনার

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারিতে আল-সাইয়েদকে হারাতে কেন এত মরিয়া ইসারায়েলি লবি আইপ্যাক

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটের এক শহরতলিতে ডেমোক্রেটিক দলের সিনেট পদপ্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদের এক নির্বাচনী প্রচার সভায় সমর্থকেরা চিৎকার করে স্লোগান দিচ্ছিল—‘আইপ্যাক নিপাত যাক।’ আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাক এখন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইয়ে (প্রাইমারি) নির্বাচনের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে বহু বছর ধরে ইসরায়েল সম্পর্কে ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতি ও অবস্থানের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। গত শুক্রবার ডেট্রয়েটের শহরতলি ডিয়ারবোর্নের ওই জনসভায় মিশিগান রাজ্য আইনসভার সদস্য আলাবাস ফারহাত বলেন, ভোটাররা আবদুল আল-সাইয়েদকে মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত করে এই ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীর লাখ লাখ ডলার ‘জলে ফেলবে’।

জনসভায় ফারহাত বলেন, ‘বিদ্যমান ব্যবস্থা বহুদিন ধরে আমাদের বলে আসছে, আধুনিক স্কুলের জন্য আমাদের টাকা নেই; পানের উপযোগী পরিষ্কার পানি, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সাশ্রয়ী আবাসনব্যবস্থার জন্য আমাদের টাকা নেই।’

ফারহাত বলেন, অথচ গাজায় শিশুদের ওপর বোমা ফেলার জন্য কিংবা দক্ষিণ লেবাননে জাতিগত নিধন অভিযান চালানোর জন্য যখন অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন এই প্রশাসন ঠিকই সেই অর্থ খুঁজে পায়।

কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমরসহ বেশ কয়েকজন মঞ্চে ওঠেন। তবে মঙ্গলবার হতে যাওয়া এই নির্বাচনে আল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সের নাম খুব একটা উচ্চারিত হয়নি। তার পরিবর্তে বারবার আইপ্যাকের নাম তোলা হয়, দুয়ো ধ্বনি দেওয়া হয় এবং তাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আইপ্যাক আল-সাইয়েদের মতো ইসরায়েলি নীতির সমালোচক প্রার্থীদের পরাজিত করতে আইপ্যাক নির্বাচনী খরচে রেকর্ড ভাঙছে।

প্রগতিশীল মহামারি বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আল-সাইয়েদ অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের উত্তরসূরি হতে চার মেয়াদের কংগ্রেস সদস্য স্টিভেন্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই লড়াইয়ের বিজয়ী ব্যক্তি আগামী নভেম্বরে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থী, সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়বেন। কিন্তু মিশিগানে আইপ্যাক এবং অন্যান্য বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আসলে ঠিক কত অর্থ খরচ করেছে, আর সেই অর্থ আসছেই–বা কোথা থেকে?

এখানে আল–জাজিরা এই প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত প্রার্থীদের আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। স্টিভেন্সকে সমর্থন এবং আল-সাইয়েদের বিরোধিতা করতে কত টাকা খরচ করা হয়েছে? ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)-এর রেকর্ড অনুযায়ী, স্টিভেন্সকে প্রাথমিক বাছাইয়ে জেতাতে আইপ্যাক এবং অন্যান্য পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ‘সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক প্রায়োরিটিজ’ নামের একটি ‘ডার্ক-মানি’ (উৎস গোপন রাখা) গোষ্ঠী স্টিভেন্সের সমর্থনে বিজ্ঞাপনে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার খরচ করেছে। যার ফলে মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ কোটি ডলারের বেশি। সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক প্রায়োরিটিজ তাদের এই খরচের হিসাব এফইসির কাছে জমা দেয়নি।

আইপ্যাক কত টাকা খরচ করেছে

গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, আইপ্যাকের নির্বাচনী শাখা ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপি) এই নির্বাচনে ৩ কোটি ডলারের বেশি—সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ৩ কোটি ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৬৩ ডলার খরচ করেছে। এই অর্থ আইপ্যাকের জন্য একটি রেকর্ড, যারা ইসরায়েলকে শর্তহীন সহায়তা দেওয়ার বিরোধী প্রার্থীদের হারাতে তাদের বিপুল অর্থ খরচ করে আসছে।

ইউডিপিকে অর্থায়ন করে কে

আইপ্যাক ইউডিপি পরিচালনা করে এবং এই পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির (পিএসি) সবচেয়ে বড় দাতাও তারা। এই নির্বাচনী চক্রে ইউডিপি যে ১০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে, তার মধ্যে ৩ কোটি ডলার এসেছে আইপ্যাক থেকে।

আইপ্যাক কথিত সামাজিক কল্যাণমূলক অলাভজনক সংস্থা হিসেবে কাজ করে। ফলে এর মূল দাতাদের চিহ্নিত করা কঠিন। মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে অলাভজনক সংস্থা থেকে পিএসিতে অর্থ স্থানান্তরের এই কৌশল ‘ডার্ক মানি’ নামে পরিচিত।

আইপ্যাক ছাড়াও ইউডিপি মূলত ধনী ইসরায়েলপন্থীদের কাছ থেকে তহবিল পেয়ে থাকে।

ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইয়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল আল-সাইয়েদ

প্যাক বা পিএসি কী কী

স্টিভেন্সের পক্ষে এবং আল-সাইয়েদের বিপক্ষে বিজ্ঞাপন দিয়ে নির্বাচনে ঢালা বাকি ৩ কোটি ডলার প্রধানত এসেছে এমন সব প্যাক থেকে, যেগুলো আবার অন্যান্য প্যাক এবং ডার্ক মানি গ্রুপের তহবিল থেকে এসেছে। এসব সংস্থা তাদের দাতাদের পরিচয় পুরোপুরি প্রকাশ করেনি। এটি একটি রুশ পুতুলের (রুশ মাতোশকা পুতুল) মতো—সামাজিক কল্যাণমূলক অলাভজনক ডার্ক মানি গোষ্ঠীর ভেতর একটি প্যাক, তার ভেতর আরেকটি প্যাক, তার ভেতর আরও একটি প্যাক।

আইপ্যাক অতীতে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে তাদের খরচ গোপন করতে এই ধরনের ‘শেল প্যাক’ ব্যবহার করেছে। এই দৌড়ে আইপ্যাক–বহির্ভূত সবচেয়ে বড় দাতা হলো ‘এ স্ট্রংগার মিশিগান’ নামের একটি নতুন গোষ্ঠী, যা ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করেছে। এই প্যাকের প্রধান অর্থ দাতা ‘সেন্টার ফরওয়ার্ড’ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা, যাদের ঘোষিত লক্ষ্য হলো দ্বিদলীয় মনোভাব গড়ে তোলা।

‘এ স্ট্রংগার মিশিগান’ চলতি বছর প্রতিষ্ঠিত ‘মিশিগান ফরওয়ার্ড ২০২৬’ নামের আরেকটি প্যাক থেকেও তহবিল পেয়েছে। এফই রেকর্ড থেকে জানা যায়, মিশিগান ফরওয়ার্ড ২০২৬-কে অর্থায়ন করেছেন ব্যবসায়ী ড্যানিয়েল লুবেটজকি; কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির বাণিজ্য সংস্থা ‘আমেরিকান কেমিস্ট্রি কাউন্সিল’ এবং ‘আমেরিকান ফাউন্ডেশন ফর গুড গভর্ন্যান্স’ নামের আরেকটি অলাভজনক সংস্থা।

আলাদাভাবে, অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফরওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত ‘সেন্টার ফরওয়ার্ড কমিটি’ নামের একটি প্যাক এই নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ ডলার খরচ করেছে। গোষ্ঠীটি শেভরন ও ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার গ্রুপের মতো করপোরেট দাতাদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছে।

শুধু তাই নয়, ‘ইউনাইট টু উইন’ নামের আরেকটি নতুন প্যাক স্টিভেন্সকে নির্বাচিত করতে প্রায় ৪০ লাখ ডলার নিয়ে মাঠে নেমেছে। সেই গোষ্ঠীটি ‘ডেমোক্রেসি ম্যাটার্স’ নামে একটি প্যাককে তাদের একমাত্র দাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ সংগঠনটি এ বছর কোনো বড় ধরনের অর্থ সংগ্রহ বা খরচের হিসাব জমা দেয়নি।

প্রচারণা গোষ্ঠী নিজেরা কত টাকা তুলেছে

এসব প্যাক প্রার্থীদের থেকে আলাদাভাবে কাজ করে। কারণ, আইন অনুযায়ী তাদের প্রার্থীর প্রচারে সরাসরি সমন্বয় করা নিষিদ্ধ। প্যাক-অর্থায়িত বিজ্ঞাপনগুলো ‘নিরপেক্ষ ব্যয়’ হিসেবে পরিচিত। প্রার্থীরা ব্যক্তি পর্যায় থেকে সরাসরি অনুদান তুলে তাদের প্রচার চালান, যেখানে নির্বাচনে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ ডলারের সীমা নির্ধারণ করা আছে।

বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো ‘নিরপেক্ষ ব্যয়ের’ বাইরে গিয়ে সমর্থক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রার্থীকে সরাসরি অনুদান দিতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে প্রচারে অর্থ পাঠাতে পারে। সরাসরি নির্বাচনী অনুদানে আল-সাইয়েদ স্টিভেন্সের চেয়ে বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যেখানে স্টিভেন্স পেয়েছেন ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার।

প্যাক কি আল-সাইয়েদকে সমর্থন করেছে

হ্যাঁ, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট আল-সাইয়েদ ‘নিরপেক্ষ ব্যয়’ হিসেবে প্রায় ৩৫ লাখ ডলার সমর্থন পেয়েছেন, যা স্টিভেন্সের পাওয়া পরিমাণের তুলনায় যৎসামান্য। সেই শিবিরের সবচেয়ে বড় দাতা হলো ‘ফাইটিং ফর মিশিগান’, যা প্রগতিশীল সমর্থক এবং ফিলিস্তিনপন্থী দাতাদের অর্থায়ন পাওয়া একটি গোষ্ঠী।

এই প্যাক ‘ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং, ইনক’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা থেকে অনুদান পেয়েছে। আল-সাইয়েদের শ্বশুর এই গোষ্ঠীতে ৩ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।

গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ায় কংগ্রেসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হওয়া প্রগতিশীল সমর্থক সৈকত চক্রবর্তীও ‘ফাইটিং ফর মিশিগান’-কে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়েছেন। কিছু লেবার ইউনিয়ন এবং প্রগতিশীল গোষ্ঠী আল-সাইয়েদের জয়ে সাহায্যের অংশ হিসেবে ফোন ব্যাংকিংয়ের মতো ছোটখাটো প্রচারে তাদের নিজস্ব প্যাক ব্যবহার করেছে।

স্টিভেন্স কী বলেছেন

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্টিভেন্স তাঁর পক্ষে আইপ্যাকের খরচ করা লাখ লাখ ডলারকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বারবার এই গোষ্ঠীসংক্রান্ত প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। অবশ্য অতীতে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক এক বিতর্কে স্টিভেন্স বলেন, ‘আবদুল আল–সাইয়েদের জন্য সুপার প্যাক আসা আর আমার জন্য সুপার প্যাক আসার মধ্যে আমি তেমন কোনো তফাৎ দেখি না। আমাদের দেশে নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কার নিয়ে সমস্যা রয়েছে।’

আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দ্রুতই স্টিভেন্সের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন, এই পার্থক্যের পরিমাণ ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি।

নিজের প্রচারের পক্ষে করা এই খরচ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও স্টিভেন্সের ওয়েবসাইটের ‘মিডিয়া’ লেবেলযুক্ত একটি অংশে আইপ্যাক এবং প্যাকগুলোর বিজ্ঞাপনের জন্য কথা বলার মূল পয়েন্টগুলো দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা আছে, ‘রাজ্যজুড়ে কৃষ্ণাঙ্গ ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি ভোটারদের মেইলবক্সে এবং ইউটিউবে পড়া ও দেখা উচিত, কীভাবে হ্যালি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অটো উদ্ধার অভিযানে চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছিলেন।’

ওয়েবসাইটে স্টিভেন্সের ভোটারদের সঙ্গে আলাপেচার শব্দহীন ভিডিও দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টতই টিভি বিজ্ঞাপনে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি।

আল-সাইয়েদ কী বলেছেন

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের সমর্থন যখন সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে, ঠিক সেই সময়ে স্টিভেন্সের প্রতি আইপ্যাকের এই সমর্থন তাঁর বিরুদ্ধে আল-সাইয়েদের প্রচারের কেন্দ্রীয় একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।

এই প্রগতিশীল চিকিৎসক যুক্তি দিয়েছেন, তিনি মিশিগানের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অন্যদিকে স্টিভেন্স তাঁর দাতাদের, বিশেষ করে আইপ্যাকের কাছে দায়বদ্ধ।

গত শুক্রবার আল-সাইয়েদ বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে কোনো ব্যাধি নন; তিনি আমাদের রাজনীতির ব্যাধির প্রথম উপসর্গ মাত্র। ব্যাধি হলো এই ব্যবস্থা—যা কোটিপতি, করপোরেশন এবং আইপ্যাকের মতো বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে আমাদের বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়তে রাজনীতিকদের কেনাবেচার সুযোগ দেয়।’

গত মাসে এক বিতর্কে আল-সাইয়েদ উল্লেখ করেন, স্টিভেন্স ইসরায়েলে অর্থায়ন বন্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি সিনেটের এই লড়াইয়ে আইপ্যাকের হস্তক্ষেপের সঙ্গে সেই নীতির যোগসূত্র তুলে ধরেন।

আল-সাইয়েদ বলেন, ‘গত সপ্তাহেই আমাদের বন্ধু আপনাদের করের ৩৩০ কোটি ডলার একটি বিদেশি সরকারকে পাঠানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আইপ্যাকের খরচ করা ৩ কোটি ডলারের বদলে এই সুবিধাই তারা পাচ্ছে।’

আইপ্যাক কী বলেছে

আইপ্যাক গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলা এবং ইরানে বোমা হামলার একজন আপসহীন সমর্থক হিসেবে কাজ করছে। তারা বিদেশি কোনো সরকারকে সেবা দিতে লবি গ্রুপ হিসেবে কাজ করার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।

সংস্থাটির দাবি, তারা নিজেদের সচেতন আমেরিকানদের একটি জোট মনে করে। তারা মার্কিন-ইসরায়েল জোটকে উভয় দেশের জন্যই কল্যাণকর বলে মনে করে।

সমর্থকদের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক এক ই–মেইলে আইপ্যাক মিশিগানের সিনেটের লড়াইকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তালিকাভুক্ত করে বলেছে, ‘গর্বিত, ইসরায়েলপন্থী আমেরিকান হিসেবে আমরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা এবং আমাদের মূল্যবোধকে যারা আঘাত করে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য কখনোই ক্ষমা চাইব না।’

হ্যালি স্টিভেন্স

আইপ্যাক এবং ফিলিস্তিনি অধিকার আন্দোলনের ঝুঁকি কী

ফিলিস্তিনি অধিকার–সমর্থকরা বলছেন, জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা আল-সাইয়েদ যদি স্টিভেন্স এবং আইপ্যাকের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে আনতে পারেন, তবে তা হবে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী প্রচারের জন্য বড় এক ধাক্কা।

ডিয়ারবোর্নে আল-সাইয়েদের সমর্থক ভিভিয়ান মোগনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘অগ্রগতি হচ্ছে। মানুষ জেগে উঠছে। সত্য সামনে আসছে।’

এই নির্বাচনী লড়াই কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

মিশিগান ১ কোটি ফিলিস্তিনি ও বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। অবশ্য ২০১৬ ও ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে এই রাজ্যের ভোটাররা ভোট দিয়েছিলেন।

অনেক প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের বেশির ভাগ আসনে নির্বাচিত হলেও এই রাজ্যে আল-সাইয়েদের উত্থান ডেমোক্রেটিক দলের ভেতরে ইসরায়েল ইস্যুতে রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সৃষ্টি করতে পারে।

মিশিগানের এই লড়াই আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা–ও নির্ধারণ করে দিতে পারে।