
ইরান যুদ্ধ এখন পর্যন্ত একটি মূল ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করেছে। আর তা হলো, অত্যন্ত শক্তিশালী মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘শাস্তিমূলক হামলা’ তেহরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই ভুল ধারণাই সত্য প্রমাণ করার জন্য নতুন করে মাঠে নেমেছে।
ইরান চুক্তি করছে না ও আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে—এ অভিযোগ আনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার নির্দেশ দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আমাদের বোকা বানাচ্ছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ব্যাখ্যা করে বলেন, ওয়াশিংটন এ হামলার মাধ্যমে ইরানের নেতাদের ‘স্পষ্ট বার্তা’ দিচ্ছে এবং নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থানকে ‘আরও শক্তিশালী’ করতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের বোমার মাধ্যমে আলোচনা করতে হয়, তবে আমরা বোমার মাধ্যমেই আলোচনা করব।’
নতুন এ বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুর সম্পূর্ণ তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার জানা যায়নি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভুল নিশানাযোগ্য গোলা নিক্ষেপ করেছে।
বিশ্লেষকেরা আগামী দিনগুলোতে মূল্যায়ন করে দেখবেন যে সাম্প্রতিকতম এই হামলা ইরানের বিকল্পগুলো সংকুচিত ও তাদের আলোচনার অবস্থান পরিবর্তন করবে কি না। এ হামলাগুলোর কয়েকটি দক্ষিণ ইরানে ও দৃশ্যত হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
কখনো কখনো যুদ্ধে কৌশলের পরিবর্তন ও ব্যাপক মাত্রার হামলা ফলাফলে বড় বদল আনতে পারে। তবে ঝুঁকি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এ নতুন আক্রমণ হয়তো শুধু সেই পুরোনো ধারাই দীর্ঘায়িত করবে, যা ট্রাম্পকে বারবার বিভ্রান্তিতে ফেলেছে। মার্কিন বাহিনী একের পর এক তাৎক্ষণিক সামরিক ‘সাফল্য’ পেলেও, সামগ্রিক কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত করার মতো পথ তারা এখনো খুঁজে পায়নি।
গত তিন মাসের তথ্যপ্রমাণ ইঙ্গিত করে যে ওয়াশিংটন যখনই সামরিক চাপ বাড়ায়, তা ইরানের নেতাদের আরও বেশি দৃঢ় সংকল্প করে তোলে। একই সঙ্গে তেহরানের মনে এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মোটেও বিশ্বাস করা যায় না।
গত তিন মাসের তথ্যপ্রমাণ ইঙ্গিত করে যে ওয়াশিংটন যখনই সামরিক চাপ বাড়ায়, তা ইরানের নেতাদের আরও বেশি দৃঢ়সংকল্প করে তোলে। একই সঙ্গে তেহরানের মনে এ বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মোটেও বিশ্বাস করা যায় না।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা (আইআরএনএ) বুধবার জানায়, জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি বলেন, ‘হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।’ সহজ কথায়, ইরান পুরো বিশ্বকে এটিই বুঝিয়ে দিতে চায় যে বোমা মেরে তাদের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ হামলা ইরান ইস্যুতে চলমান সংঘাতের পেছনে থাকা তিনটি মূল বিষয়কে স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রথমত, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে ট্রাম্পের শর্ত দেশটি মেনে না নেওয়ায় তিনি প্রকাশ্যেই ক্রমশ হতাশ হয়ে উঠছেন।
যদি আমাদের বোমার মাধ্যমে (ইরানের সঙ্গে) আলোচনা করতে হয়, তবে আমরা বোমার মাধ্যমেই আলোচনা করব।—পিট হেগসেথ, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
দ্বিতীয়ত, নতুন এই সামরিক পদক্ষেপ এটিই প্রমাণ করে যে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, একমাত্র মুখোমুখি সংঘাতের মাধ্যমেই প্রতিপক্ষকে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করা সম্ভব। একই সঙ্গে এটি একটি নাজুক মুহূর্তে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে চলমান আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরোনো প্রবণতাকে আবারও সামনে এনেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত ব্যবধানগুলো কমিয়ে আনতে বুধবার সকালে কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরান সফরে যায়। ঠিক এরপরই নতুন করে মার্কিন হামলা চালানো হলো।
এ হামলার আগেও অন্তত দুবার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পাশ কাটিয়ে হুট করে সামরিক পথ বেছে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। প্রথমবার, গত বছর কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যে ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলোতে বোমাবর্ষণ করেন এবং দ্বিতীয়বার, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় দীর্ঘ আলোচনা প্রক্রিয়ার ওপর ধৈর্য হারিয়ে তিনি ও ইসরায়েল যৌথভাবে সাম্প্রতিকতম ‘ইরান যুদ্ধ’ শুরু করেন।
গত সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে মঙ্গলবার ইরানি সামরিক স্থাপনার ওপর মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। বুধবারের হামলাটি ছিল মূলত এরই ধারাবাহিকতা।
হুমকি, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।—আমির সাইদ ইরাভানি, জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের রাষ্ট্রদূত
বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের এমনটা করার অধিকার আছে।’ তবে বাস্তবিকভাবে ট্রাম্পের সামনে বিকল্প পথও খুব কম ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো পদক্ষেপ না নিত, তবে ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের একচ্ছত্র আধিপত্যই প্রতিষ্ঠিত হতো।
কিন্তু প্রতিবার যখনই ট্রাম্প আরও বেশি শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছেন, ততই এ সংঘাত তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জিম হাইমস বুধবার সিএনএনের এরিন বার্নেটকে বলেন, প্রতিশোধমূলক হামলার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার ক্ষমতা এখনো ইরানের রয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান চাইলে ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগরের তেল রপ্তানি রুট বা পথগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে।
জিম হাইমস বলেন, ‘তাদের (ইরান) হাতে খেলার মতো অনেক চাল রয়েছে। আর সেই চালগুলোর প্রতিটিই একটি নির্দিষ্ট দিকেই ইঙ্গিত করছে। তা হলো, মার্কিন জনগণের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অনেক অনেক বেড়ে যাওয়া, যা বর্তমান দামের চেয়েও অনেক বেশি।’
হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়ে ট্রাম্পের শর্ত দেশটি মেনে না নেওয়ায় তিনি প্রকাশ্যেই ক্রমশ হতাশ হয়ে উঠছেন।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নতুন করে উসকে দেওয়া তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। এটি (ইরানে নতুন করে হামলা) মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত পেছনে ফেলে আসার বিষয়ে ট্রাম্পের তীব্র আকাঙ্ক্ষাই প্রতিফলিত করে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এ সামরিক অভিযান ছিল মূলত ‘শর্ত জুড়ে দেওয়ার’ একটি চেষ্টা। আমরা এমন কিছু নতুন করে শুরু করতে চাই না, যা শুরু করার কোনো প্রয়োজন নেই।’
আপাতদৃষ্টিতে এ নতুন হামলাগুলো সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির গায়ে আরেকটি বড় ক্ষত তৈরি করেছে। এ যুদ্ধবিরতি আগের দফার লড়াই সাময়িকভাবে থামিয়ে রেখেছিল। তবে এ তথাকথিত যুদ্ধবিরতি মূলত অস্ত্র ব্যবহার না করার কোনো প্রথাগত চুক্তি ছিল না; বরং এটি ছিল দুই পক্ষের মধ্যকার একটি অলিখিত বোঝাপড়া, যাতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতে হামলার তীব্রতা একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে রাখা যায়।
হয়তো ইরানকে বাধ্য করার এই নতুন মার্কিন চাপ পুরো পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সামনে একটি বড় ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকিও রয়েছে। ওয়াশিংটনের কাছে যেসব সামরিক পদক্ষেপ যৌক্তিক ও পরিমিত মনে হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা তা সেভাবে নাও দেখতে পারে।
কূটনীতির ‘শর্ত’ নতুন করে সাজানোর এ সর্বশেষ মার্কিন চাল সফল হতে হলে ইরানকে প্রথমে এটি বিশ্বাস করতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই যুদ্ধে জিতে গেছে বলে যে দাবি করছে, তা সত্যি। কিন্তু তেহরান উল্টো মনে করছে, তাসের সব ভালো চাল আসলে তাদের হাতেই রয়েছে। আর এটিই একটি অন্যতম কারণ, যার জন্য গত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকে যে পরিবর্তন এনেছিলেন, তাতে ইরান এখনো সম্মতি দেয়নি। তা ছাড়া, হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান বিশ্বজুড়ে মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে এবং একই সঙ্গে ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। ফলে তেহরান হয়তো এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে কূটনৈতিক দিক থেকে তারাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
আবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র আক্রমণের পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা তাদের জন্য একধরনের বড় বিজয়। যদিও বেশির ভাগ বিশ্লেষক মনে করেন যে মার্কিন অবরোধের কারণে সৃষ্ট চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতি ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য কাটিয়ে উঠতে পারবে না। তবে এ সরকারের পতন যে খুব দ্রুত ঘটছে, তেমন কোনো লক্ষণও আপাতত নেই।
এসব কারণে তেহরান এখনো ট্রাম্পের কাছে এমন কোনো নতিস্বীকার করেনি, যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে সঠিক প্রমাণ করতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনমত জরিপগুলোতে নিজের পক্ষে হাওয়া ঘোরাতে পারেন; যেখানে দেশটির অধিকাংশ ভোটার ইতিমধ্যে এ যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প নিজেই একটি তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে তাঁকে ‘পাগল’ বলেছিলেন। লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে একটি শান্তিচুক্তি (ইরানের সঙ্গে) ভেস্তে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। এরপর ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’কে বলেন, তিনি ইসরায়েলি নেতাকে সতর্ক করেছিলেন যে এ সপ্তাহে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালালে ইসরায়েল পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে, সেই ট্রাম্প নিজেই আবার ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ পরস্পরবিরোধী বার্তা প্রমাণ করে যে তিনি নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের জালে নিজেই আটকে গেছেন। যুদ্ধের কৌশলগত পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হয়তো আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হামলার নির্দেশ দিতে হবে।
তবে তেমনটি করা হলে ইরানও যে পাল্টা জবাব দেবে, তা নিশ্চিত। আর এর ফলে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলো আবারও যুদ্ধের আগুনের মুখে পড়বে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে দেখা দেবে তীব্র জ্বালানি সংকট, যা ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে মার্কিন হামলায় ইরানের মনে যদি এই ভয় তৈরি না হয় যে তারা হেরে যাচ্ছে, তবে ট্রাম্প হয়তো কখনোই দেশটির সরকারকে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করতে পারবেন না।
এখানে আরেকটি বড় জটিলতাও রয়েছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে কোনো চুক্তি হলেও তা হবে শুধু একটি শুরু। এরপর ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ এবং সহযোগিতা করার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নানামুখী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি নিয়ে আরও সপ্তাহের পর সপ্তাহ বা মাসের পর মাস আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
যদি নতুন দফার এই হামলাগুলো কাজে না আসে, তবে ট্রাম্পের এ জোর–জুলুমের নীতি নিয়ে আবারও বড় ধরনের সমালোচনা শুরু হবে। কোনো সমস্যা সমাধানে হাতুড়ি পেটার মতো গায়ের জোর খাটানো ও প্রতিপক্ষকে ভেঙে পড়তে বাধ্য করা—এটি মূলত এ আবাসন ব্যবসায়ীর পুরোনো কৌশল। যদিও এই নীতি এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর জন্য বড় কোনো সাফল্য এনে দিতে পারেনি।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ আক্রমণাত্মক মনোভাব তাঁর পুরো প্রশাসনের চিন্তাভাবনাতেই ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, ‘কেউ যখন চুক্তির নামে সময়ক্ষেপণ করার চেষ্টা করে, তখন তা সহজেই বোঝা যায়। এখন সময়ক্ষেপণের বদলে তাদের ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক বোমাবর্ষণ দেখতে হবে।’
কিন্তু নতুন এ বিমান হামলাও যদি তেহরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য না করে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে—যে কৌশল বারবার ব্যর্থ হচ্ছে, সেটিই কেন বারবার আঁকড়ে ধরছেন তিনি?