এয়ারফোর্স ওয়ানের সামনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
এয়ারফোর্স ওয়ানের সামনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের হামলার হুমকিতে তুরস্ক থেকে গোপনে উড়োজাহাজ বদলের ঘটনা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

তুরস্কে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে সম্ভাব্য এক হুমকির কারণে গোপনে উড়োজাহাজ বদল করার কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে আঙ্কারা ছাড়ার সময় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলি। তারা আমাকে অন্য একটি ফ্লাইটে, ভিন্ন একটি উড়োজাহাজে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। তারা যা বলে, আমাকে সেটাই করতে হয়।’

গত ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে উঠেছিলেন। পরে জানা যায়, সেই সময় ক্যামেরার নজর এড়িয়ে একটি খাবারের গাড়ি বা ক্যাটারিং ট্রাকের সাহায্যে তাঁকে গোপনে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের এমন উড়োজাহাজ বদলের কারণে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ওই ‘ছদ্মবেশী বিমানে’ (এয়ারফোর্স ওয়ান) থাকা অন্য যাত্রীরা ঝুঁকিতে পড়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে গতকাল ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি যে সামরিক উড়োজাহাজে চড়েছিলেন, সেটিই আসলে ‘বেশি ঝুঁকিতে’ ছিল।

গত ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে উঠেছিলেন। পরে জানা যায়, সেই সময় ক্যামেরার নজর এড়িয়ে একটি খাবারের গাড়ি বা ক্যাটারিং ট্রাকের সাহায্যে তাঁকে গোপনে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিবিসির মার্কিন সহযোগী গণমাধ্যম সিবিএস নিউজকে কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ সম্ভাব্য ইরানি হুমকির মুখে বেশ চতুরতার সঙ্গে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়া হলেও উড়োজাহাজে থাকা গণমাধ্যমকর্মী এবং হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মীই বিষয়টি টের পাননি।

এর আগে ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, আঙ্কারা সম্মেলন চলাকালে তিনি ছিলেন ইরানের ‘এক নম্বর নিশানা’।

গত মাসের এ গোপন তৎপরতার ঠিক আগের দিনই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের আলোচনা ভেস্তে যায়। এর পরপরই ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এমন এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।

গত ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের আগে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজের পাশে ক্যাটারিং ট্রাককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়

কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে (নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান) চেপে তুরস্কে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফেরার সময় ‘পুরোনো দিনের স্মৃতির খাতিরে’ পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ফিরবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে সেই প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজে চড়তে দেখা যায় ভিডিও ফুটেজে।

ট্রাম্পের উড়োজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ সম্ভাব্য ইরানি হুমকির মুখে বেশ চতুরতার সঙ্গে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়া হলেও উড়োজাহাজে থাকা গণমাধ্যমকর্মী এবং হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মীই বিষয়টি টের পাননি।

তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প যেদিক দিয়ে উড়োজাহাজে উঠেছিলেন, তার ঠিক উল্টো দিকে এটির দরজা বরাবর উঁচু করা একটি ক্যাটারিং ট্রাকে চড়ে তিনি চুপিসারে নেমে যান। সেখান থেকে তাঁকে গোপনে নিয়ে যাওয়া হয় অপেক্ষাকৃত ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে। এটি মূলত একটি পরিবর্তিত বোয়িং ৭৫৭ বিমান, যা সাধারণত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করে থাকেন।

পত্রিকাটির দেওয়া তথ্যমতে, পুরো বিষয়কে স্বাভাবিক দেখাতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বাইরের সাধারণ সিঁড়ি ব্যবহার করে আলাদাভাবে ওই সি-৩২এ বিমানে ওঠেন। অন্যদিকে সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মী যথারীতি মূল এয়ারফোর্স ওয়ানে গিয়ে বসেন। তাঁদের সেটির জানালার পর্দাগুলো নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রেসিডেন্ট যে তাঁদের সঙ্গে ওই উড়োজাহাজে নেই, সে তথ্য তাঁদের একেবারেই জানা ছিল না।

বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির স্ক্রিনশট