মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার রাতে সমর্থকদের সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। ৫ আগস্ট ২০২৬
মিশিগানের ডেট্রয়েটে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার রাতে সমর্থকদের সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল আল-সাইয়েদ। ৫ আগস্ট ২০২৬

ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী বাছাই

মিশিগানে কোটি কোটি ডলার উড়িয়েও হারানো গেল না আবদুল আল-সাইয়েদকে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে (সিনেটপ্রার্থী বাছাই নির্বাচন) জয়ী হয়েছেন প্রগতিশীল জনস্বাস্থ্যকর্মী আবদুল আল-সাইয়েদ।

ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও (৬০ মিলিয়ন) বেশি নির্বাচনী প্রচারণার খরচকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আল-সাইয়েদ এ ঐতিহাসিক মনোনয়ন লাভ করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবারের এ নির্বাচনী ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ বা এআইপিএসির জন্য একটি মস্ত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদ সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। নির্বাচনে যে কয়টি আসনে সিনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য তীব্র লড়াই হবে, তার মধ্যে মিশিগানের এ আসনটিকে অন্যতম ধরা হচ্ছে। এ আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

আবদুল আল-সাইয়েদকে হারাতে এ গোষ্ঠীই মূলত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ডলারের (৩০ মিলিয়ন) বেশি অর্থ ঢেলেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে আল-সাইয়েদ সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। নির্বাচনে যে কয়টি আসনে সিনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য তীব্র লড়াই হবে, তার মধ্যে মিশিগানের এ আসনটিকে অন্যতম ধরা হচ্ছে। এ আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করতে পারে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর পদে টেলিভিশন বিতর্কে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক বাছাইয়ের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল আল-সাইয়েদ ও হ্যালি স্টিভেন্স

মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইয়েদ যদি নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হন, তবে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া দোদুল্যমান মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গতকালের এ ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

আল-সাইয়েদের এ জয় এক বিরাট ঘটনা। ভোটাররা এমন বিজ্ঞাপনের বন্যায় পা দেননি, যেখানে কোনো নীতি বা জনকল্যাণের কথা ছিল না, বরং শুধু ‘আবদুল নামের এক আরব–আমেরিকান মুসলিমকে’ লক্ষ্য করে নেতিবাচক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছিল।
মায়া বেরি, আরব-আমেরিকান ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক

আল-সাইয়েদ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, যেসব যুদ্ধে অর্থ ঢাললে শুধু ইসরায়েলেরই লাভ হয়, সেই অর্থ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে বিনিয়োগ করা উচিত।

কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ওকালতি না করা নিরপেক্ষ সংগঠন ‘আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট’-এর নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি আল-সাইয়েদের এ জয়কে একটি ‘বিরাট ঘটনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা এমন বিজ্ঞাপনের বন্যায় পা দেননি, যেখানে কোনো নীতি বা জনকল্যাণের কথা ছিল না; বরং শুধু ‘আবদুল নামের এক আরব–আমেরিকান মুসলিমকে’ লক্ষ্য করে নেতিবাচক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

মায়া বেরি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমি সারা দেশের মানুষকে এটা জানাতে পেরে রোমাঞ্চিত যে মিশিগানের মানুষ এ নোংরা রাজনীতি মুখ বুজে সহ্য করবে না।’