গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিগ সামরিক ঘাঁটির একটি দৃশ্য। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিগ সামরিক ঘাঁটির একটি দৃশ্য। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে স্নায়ুযুদ্ধকালে একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটি আবার চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটির পাশাপাশি পূর্ব উপকূলের একটি ঘাঁটিতেও তারা সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে। ঘাঁটিটি বর্তমানে ডেনমার্কের ডগ স্লেড প্যাট্রোল (ইউনিটটি কুকুরের টানা স্লেজ গাড়ি ব্যবহার করে) ব্যবহার করছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে আজ মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি চুক্তির আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

দুটি সূত্র জানায়, ওই দুটি জায়গা হলো নারসারসুয়াক ও মেস্টারসভিগ। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান নামের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে নারসারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে আসে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ ঘাঁটিটি বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোল ব্যবহার করে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে স্থানীয় সময় আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের এ নতুন চুক্তিতে সই করার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র জানায়, সই হওয়ার আগপর্যন্ত চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। হোয়াইট হাউস থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডেনমার্কের ভাষ্য, এ চুক্তির ফলে উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ওপর থাকবে না; বরং তা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সার্বিক নজরদারির আওতায় আসবে।

‘সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোল’-এর একটি কুকুরকে আদর করছেন ডেনিশ সশস্ত্র বাহিনীর এক সদস্য। মেস্টারসভিগ সামরিক ঘাঁটি, গ্রিনল্যান্ড। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের অব্যাহত চাপের পর এ সমঝোতা হচ্ছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা বহু আগেই প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি এ অঞ্চল দখল করে নিতে তিনি সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও কখনো উড়িয়ে দেননি।

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের এ হুমকি চরমে পৌঁছায়। ফলে ন্যাটোর ভেতরেই একটি কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়। সংকট কাটাতে এবং চাপ কমাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ও ১০ হাজারের বেশি সেনা ছিল। বর্তমানে সেখানে শুধু পিটুফিক স্পেস ঘাঁটি চালু আছে। এতে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা কর্মরত রয়েছেন।