বিমানবন্দর মানেই শুধু ফ্লাইট চলাচলের জায়গা নয়। বিশ্বে এমন কিছু বিমানবন্দর আছে যেগুলোর আকার কোনো কোনো শহরের চেয়েও বড়। এগুলোতে আছে অনেক রানওয়ে, বিশাল টার্মিনাল, কেনাকাটার জায়গা, লাউঞ্জ ও হোটেল। এসব বিমানবন্দরের স্থাপনাও নজরকাড়া।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরগুলো প্রতিবছর লাখ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়। এগুলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতাও যেন একটি ছোটখাটো ভ্রমণ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ বিমানবন্দরের একটি তালিকা ধরে প্রতিবেদন করেছে এনডিটিভি। তালিকায় থাকা বিমানবন্দরগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
আয়তনে সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের তালিকায় দশম অবস্থানে আছে চীনের সাংহাই পুদং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি চীনের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটি। ধারণক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে বিমানবন্দরটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
সাংহাইয়ের কেন্দ্রভাগ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত পুদং এলাকায় ৪০ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে এ বিমানবন্দরের অবস্থান।
তালিকায় নবম অবস্থানে আছে জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দর। এটির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে। ১৯৬৯ সালে এটির যাত্রা শুরু হয়। জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দর হিউস্টনের আধুনিক স্থাপত্য ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।
তবে পুরোনো দিনের নিদর্শন হলেও বিমানবন্দরটি যাত্রীদের উন্নত ও আধুনিক ভ্রমণসুবিধা দেয়। শহরের উত্তরে ৪৪ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি হিউস্টনের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আয়তন ৪৬ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটার। আগে এটি ম্যাককয় বিমানঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বড় বেসামরিক বিমান চলাচল কেন্দ্রগুলোর একটি। বিমানবন্দরটি টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক নকশা ও যাত্রীসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
তালিকায় সপ্তম অবস্থানে থাকা দাশিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান চীনের বেইজিংয়ে। এর আয়তন ৪৭ বর্গকিলোমিটার। বিমানবন্দরে থাকা তারা মাছ আকৃতির টার্মিনালের জন্য এটি বেশ পরিচিতি পেয়েছে।
দাশিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী আধুনিক অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। এর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন যাত্রীদের হাঁটার দূরত্ব কমে এবং তারা আরামদায়ক অভিজ্ঞতা পায়। এটির নকশায় চীনের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক উপাদানগুলোকে যুক্ত করা হয়েছে।
তালিকায় ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ষষ্ঠ স্থানে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ২৬ মাইল পশ্চিমে এ বিমানবন্দরের অবস্থান। এটি ৪৭ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।
এ বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিবছর ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে থাকে।
ডালাস/ফোর্টওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। এটি ৬৯ দশমিক ৭ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এটি টেক্সাসের ডালাস ও ফোর্টওয়ার্থ শহরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে।
ভবিষ্যতে টার্মিনাল সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রেখে এর নকশা করা হয়েছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ৭৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে এ বিমানবন্দরের অবস্থান। এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরকে বিশ্বের সবচেয়ে নতুন মেগা বিমানবন্দরগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরটির অবস্থান কৃষ্ণ সাগরের কাছে এবং ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে। ইস্তাম্বুলের ইতিহাস–ঐতিহ্য ও অটোমান মসজিদের নকশার অনুপ্রেরণায় বিমানবন্দরের স্থাপত্য গড়ে উঠেছে।
তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান মালয়েশিয়ার সেপাংয়ে। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ বিমানবন্দরটি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের মূল কেন্দ্র। জাপানি স্থপতি কিশো কুরোকাওয়া ও মালয়েশিয়ার স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এ জে এম সমন্বিতভাবে এই বিমানবন্দরের নকশা করেছে।
বিমানবন্দরটিতে আছে বিস্তৃত সবুজ এলাকা। এর স্থাপনাগুলোর ভেতরে কাঠের ছাদ ও গাছের মতো স্তম্ভ যুক্ত করা হয়েছে। এতে সেখানে গেলে প্রকৃতিতে থাকার মতো অনুভূতি পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে বিমানবন্দরটি বেশ দৃষ্টিনন্দন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তবে এটি উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরের মোট আয়তন ১৩৭ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। এখানে অবতরণ করা মাত্রই একটি বিশাল খোলা জায়গায় প্রবেশের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান কার্টিস ফেন্ট্রেস এর নকশা করেছে। বিমানবন্দরের হালকা ও স্বচ্ছ ছাদের কারণে অনায়াসে প্রাকৃতিক আলো টার্মিনালের ভেতরে ঢুকতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সৌদি আরবের দাম্মামের কাছে মরু এলাকায় ৭৭৬ বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে এই বিমানবন্দরের অবস্থান। অন্যদিকে ঢাকা নগরের মোট এলাকা প্রায় ৩০৬ বর্গকিলোমিটার। সুতরাং বলা চলে, এই বিমানবন্দরের আয়তন ঢাকা নগরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বড়।
বিমানবন্দরটির নকশা করেছে মিনোরু ইয়ামাসাকি অ্যাসোসিয়েটস। এটি বিশ্বের বেসামরিক বিমান চলাচলের অবকাঠামোকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। এটি যাত্রীদের অসাধারণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দেয়। বিমানবন্দরটি সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ইসলামি স্থাপত্যকেও প্রতিফলিত করে।