উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে ঘরে ঢুকে রোহিঙ্গা যুবককে গুলি করে হত্যা, আতঙ্ক
কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া (ক্যাম্প-৪) আশ্রয়শিবিরে ঘরে ঢুকে এক রোহিঙ্গা যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে ই-৪ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম সৈয়দ আলম (২৪)। তিনি আশ্রয়শিবিরের ওই ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ মুচির ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হোসেন বলেন, আজ সকাল সোয়া ছয়টার দিকে ১০-১৫ জনের একটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দল সৈয়দ আলমের ঘরে ঢুকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় রোহিঙ্গারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ সৈয়দ আলমকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের আইওএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে মিয়ানমারের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওসি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘরে ঢুকে গুলি করে রোহিঙ্গা যুবককে হত্যার ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই আশ্রয়শিবিরে ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস।
আশ্রয়শিবিরের এক রোহিঙ্গা নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত সৈয়দ আলম একসময় আরসার সমর্থক ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি মিয়ানমারের আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনে (আরএসও) যোগ দেন। আশ্রয়শিবিরে আরসার সদস্যদের অবস্থান, তৎপরতা, উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য সরবরাহ করে আসছিলেন সৈয়দ আলম। এ কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে।
চলতি নভেম্বর মাসে মিয়ানমারের দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে তিন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানায়, ২৫ নভেম্বর উখিয়ায় বালুখালী (ক্যাম্প-১৯) আশ্রয়শিবিরে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ (৫০) নামের এক রোহিঙ্গা মাঝিকে (নেতা) কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। আতাউল্লাহ ওই আশ্রয়শিবিরের এ-১ ব্লকের বাসিন্দা। তিনি ওই ব্লকের হেড মাঝির দায়িত্বে ছিলেন। আতাউল্লাহ আরসাবিরোধী ছিলেন। তিনি আরসার তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতেন। এ কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও রোহিঙ্গা নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে ৮ মাসে আশ্রয়শিবিরে ৫৮টি সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৭০ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন রোহিঙ্গা মাঝি, ২১ জন আরসার সদস্য, ৩ জন আরএসওর সদস্য, ১ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং অন্যরা সাধারণ রোহিঙ্গা।
বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে আট লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। গত ছয় বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।