প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা সাড়ে তিনটা থেকে নগরের টিলাগড়, লামাবাজার, আম্বরখানা ও দর্শনদেউড়ি থেকে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল নিয়ে পৃথক চারটি মিছিল নগরের চৌহাট্টা এলাকায় জড়ো হয়। এ সময় সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বেলা পৌনে চারটা থেকে চারটা পর্যন্ত সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। পরে চারটি অংশ একত্রে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মোটরসাইকেলে প্রদক্ষিণ করে।

শহর প্রদক্ষিণ শেষে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চৌহাট্টা এলাকায় জড়ো হন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অবস্থানস্থলের ২০০ গজের মধ্যেই বিএনপির সমাবেশস্থল সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের অবস্থান। ওই মাঠেই আগামী শনিবার বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মাঠে তখন বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী সমাবেশের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলের পাশে কর্মসূচি পালন করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিকেল পাঁচটার দিকে ছাত্রলীগের কর্মসূচি শেষ হয়।

ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ এবং মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশোয়ার জাহান ওরফে সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ। চৌহাট্টা এলাকায় অবস্থানকালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে তাঁরা বলেন, বিএনপির গণসমাবেশ নিয়ে ছাত্রলীগের কোনো বক্তব্য নেই। তবে কর্মসূচি পালনের নামে শান্তিপ্রিয় সিলেটকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করলে ছাত্রলীগ রুখে দাঁড়াবে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিএনপির কর্মসূচি তারা পালন করুক, এতে সমস্যা নেই। তবে কর্মসূচির নামে সিলেটকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে ছাত্রলীগ জবাব দেবে—এটা বোঝাতেই কয়েক হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে শহরে বের হয়েছিলেন তাঁরা।

ছাত্রলীগের কর্মসূচির মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মিফতাহ্ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপি অস্থিতিশীলতা তৈরির রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে সব কর্মসূচি পালন করে। যারা (ছাত্রলীগ) মহড়া দেয়, তারাই মূলত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। তবে বিএনপি কোনো পাতানো ফাঁদে পা দেবে না। বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ মহাসমাবেশে পরিণত হবে। এ জন্যই তারা পাগল হয়ে গেছে। রাজনীতির দেউলিয়াত্ব যেখানে থাকে, সেখানেই আরেকটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশকে বানচাল করার চেষ্টা করা হয়।