সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার তল্লাশিচৌকিতে দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। সন্দেহভাজন যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর হোসেনের নেতৃত্বে আটজনের একটি দল সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে মহাসড়কের অন্য দিনের তুলনায় গাড়ি খুবই কম চলাচল করছে।

এসআই মঞ্জুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কের গাড়ি ও যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম। যেসব গাড়ি ঢাকা যাচ্ছে সেব গাড়িতে সন্দেহভাজন যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে নাশকতার উদ্দেশ্যে বোমা বা অন্য কিছু নিয়ে যেতে না পারে সে কারণে তারা এই তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কোনো কিছু পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

চাঁদপুরের মতলব থেকে জৈনপুর পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসচালক মোহসীন মিয়া জানান, বাসে অর্ধেক যাত্রীও নেই। পথে কয়েকটি স্থানে পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়েছেন। পুলিশ যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তারা কোথায় যাচ্ছেন? কেন যাচ্ছেন? তাদের সঙ্গে আর কেউ আছেন কি না?

বাসের যাত্রী রুবেল হোসেন বলেন, যেভাবে পুলিশ জায়গায় গাড়ি আটকে তল্লাশি চালাচ্ছে ও জেরা করছে এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পুলিশ অনেক যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

রূপগঞ্জ ভুলতা-গুলিস্তান রুটের চলাচলকারী মেঘনা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এই বাসের চালক ইমরান হোসেন বলেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্কের কারণে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে।

এদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের সাইনবোর্ড এলাকায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের একটি দল তল্লাশিচৌকির দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

সেখানে দায়িত্বরত ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তল্লাশি চালানো হলেও সন্দেহভাজন কিছু পাননি তাঁরা। এ ছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের পাগলায় চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আজ ভোর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপির আরও ১০ কর্মী–সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাই লাই উ মারমা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, কেউ যাতে নাশকতার উদ্দেশ্যে কোন কিছু বহন করে নিয়ে যেতে না পারে এ কারণে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চেকেপাস্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।