অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ মোল্লাকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মিন্টু সেরনিয়াবাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জুনিয়র ছেলেদের সঙ্গে কিছু একটা গন্ডগোল হয়েছে। শুনেছি কিল-ঘুষি-থাপ্পড় দিয়েছে। মোটরসাইকেল নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। তাঁর মোটরসাইকেল ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনাটি তিনি জানেন না। এ ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির সমাবেশে যাওয়ায় বন্ধ করা আরও ২ প্রতিষ্ঠানের তালা খুলল

এদিকে বরিশালে বিএনপির গণসমাবেশে যাওয়ায় আগৈলঝাড়ায় বন্ধ করে দেওয়া আরও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি এনজিও কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। ৯ দিন বন্ধ রাখার পর আজ সকালে উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির সমর্থক আনোয়ার হোসেনের দোকান ও ‘ভোরের আলো’ নামের একটি এনজিওর তালা খুলে দেওয়া হয়। তবে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. হাফিজুর রহমান সিকদারের দোকানটি এখনো তালাবদ্ধ।

এর আগে সমাবেশে যোগ দেওয়ায় আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলার ২৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দুটি এনজিও ভবনে তালা লাগিয়ে দেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সাত দিন পর গত শুক্রবার সকালে ২৬টি দোকান ও একটি এনজিওর তালা খুলে দেওয়া হয়।

বাগধা ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির সমর্থক আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল রাতে তাঁর বাড়িতে তাঁকে (আনোয়ার) ডেকে পাঠান। তিনি যাওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান দোকানের চাবি দিয়ে দোকান খুলতে বলেন এবং এ ঘটনায় আদালতে দায়ের করা মামলা ও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বলেন। আজ সকালে তিনি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেছেন।

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আদালতে করা মামলার আসামি আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রহিম বক্তিয়ার আমাকে হয়রানি করতে দেড় লাখ টাকা পাওনা দাবি করে গতকাল রাতে থানায় মামলা করেছেন। রহিম আমার কাছে কোনো টাকা পাবে না। তাঁর সঙ্গে আমার লেনদেন নাই। আমাকে হয়রানি করতেই তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ‘ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন রেখে দেন। মামলার বিষয়ে পরিদর্শক মাজাহারুল ইসলাম বলেন, আবদুর রহিম বাদী হয়ে আনোয়ারের কাছে দেড় লাখ টাকা পাবেন দাবি করে একটি মামলা করেছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘ভোরের আলো’ এনজিওর চেয়ারম্যান মো. শাহিন বক্তিয়ার বলেন, আজ সকালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. ফিরোজ সিকদার এনজিও পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্বাস খন্দকারের কাছে চাবি দেওয়ার পর তাঁরা কার্যালয় খুলেছেন। তবে ফিরোজ দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁকে (শাহিন), সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ও সদস্য সুজন মিয়াকে বাদ দিয়ে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করার শর্ত দিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ফিরোজ সিকদার বলেন, বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এনজিওটি তালা দিয়েছিলেন। তিনি জানার পর খুলে দিয়েছেন। পরিচালনা কমিটি পরিবর্তনের শর্তারোপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনজনকে বাদ দেওয়ার কোনো শর্ত আমি দিইনি। সদস্যরাই পরিচালনা কমিটি গঠন করবে। তবে আমাদের নেতাদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।’

অন্যদিকে এখনো বন্ধ থাকা দোকানের মালিক বিএনপির নেতা হাফিজুর রহমান সিকদার অভিযোগ করেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন সেরনিয়াবাতের ছোট ভাই রিপন আমার দত্তেরাবাদ ডিএইচবি বাজারের দোকানটি বন্ধ রেখেছেন। সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও আমারটা খুলে দিচ্ছেন না।’