‘বিশ্বকাপের শেষ হাসিটা মেসির সঙ্গে হাসতে চাই’
গত ২০ নভেম্বর কাতারে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল রোববার ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের এই খেলাকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে চলছে গল্প, আড্ডা, খুনসুটি আর তর্ক। গত এক মাস বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত ছিল নেত্রকোনার সর্বস্তরের লোকজন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত পর্যন্ত খেলা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও কম হয়নি।
নেত্রকোনা শহরের পাড়া-মহল্লাগুলোয় টানানো পতাকা, জার্সিধারী সমর্থক, গল্প-আড্ডায় মানুষের কথোপকথন থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের পাল্লাই ভারী দেখা গেছে। বিশ্বকাপের শুরুতে ফ্রান্সের সমর্থক একেবারেই কম ছিল। তবে ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দেশটির সমর্থকেরা এখন ফ্রান্সের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে খেলার মাঠে যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, তেমনি টিভি বা বড় পর্দার সামনেও সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এদিকে খেলা দেখার জন্য শহরের পাড়া-মহল্লায় চলছে নানা ধরনের প্রস্তুতি। অনেকেই চাঁদা তুলছেন প্রজেক্টরের সাহায্যে বড় পর্দায় খেলা দেখাসহ খাওয়াদাওয়ার আয়োজনে। আছে ভুভুজেলা নিয়ে আনন্দমিছিলেরও আয়োজন। থাকছে আতশবাজির ব্যবস্থাও। শেষ মুহূর্তে কেউ কেউ নতুন করে টাঙাচ্ছেন বড় বড় পতাকা।
শহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জয় সরকার ফ্রান্স দলের সমর্থক। আজ শনিবার সন্ধ্যায় শহরের মাছবাজার এলাকায় মুরগির দোকানের সামনে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। জানান, খেলার রাতে ফ্রান্স সমর্থকদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই ফ্রান্স এবারও বিশ্বকাপ তাদের হাতের মুঠোয় রাখুক। এমবাপ্পে, গ্রিজমান, জিরু যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, আশা করি ফাইনালেও তাঁরা সে রকম নৈপুণ্য দেখাবেন এবং ঐতিহ্য ধরে রাখবেন।’ সঞ্জয় অবশ্য জানান, তাঁর স্ত্রী সংগীতশিল্পী পিয়া বৈশ্য আর্জেন্টিনার ঘোর সমর্থক।
সাতপাই এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘আমি প্রকৃতপক্ষে ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্তু ব্রাজিল ছিটকে পড়ার পর থেকে দ্বিতীয় পছন্দের দল হিসেবে ফ্রান্সকে সমর্থন করছি। আশা করি, এবারের ট্রফি ফ্রান্সের হাতে যাবে। আমার বাসাসহ প্রতিবেশীদের নিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে আর্জেন্টিনার সমর্থকই বেশি।’
শহরের দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাঈক সাফওয়ান বলে, ‘করোনা পরিস্থিতি, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ইত্যাদি কারণে একঘেয়েমিতে ছিলাম। এই স্থবিরতা কাটিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে খুব আনন্দে সময় কেটেছে। বিশ্বকাপের শেষ হাসিটা মেসির সঙ্গে হাসতে চাই। এখন শুধু মনেপ্রাণে প্রার্থনা, এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি যেন লিওনেল মেসির হাতেই ওঠে। মেসির সঙ্গে আলভারেজ, দি মারিয়া, দি পল রয়েছেন। খেলার পুরো এক মাস আর্জেন্টিনার জার্সি শরীর থেকে নামাইনি।’